Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টিতে ভিজেই বিশ্বকর্মার মূর্তি গড়ছেন ঝাড়গ্রামের লক্ষ্মী দাস

বয়স ষাট পেরিয়েছে। অথর্ব শরীর নিয়েই ঝাড়গ্রাম শহরের মৃৎশিল্পী লক্ষ্মী দাস প্রতিমা গড়ছেন

বৃষ্টিতে ভিজেই বিশ্বকর্মার মূর্তি গড়ছেন ঝাড়গ্রামের লক্ষ্মী দাস
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বয়স ষাট পেরিয়েছে। অথর্ব শরীর নিয়েই ঝাড়গ্রাম শহরের মৃৎশিল্পী লক্ষ্মী দাস প্রতিমা গড়ছেন। শহরের জুবিলি মার্কেটের ছোট গলির ভিতর বিশ্বকর্মা মূর্তি গড়ার কাজ চলছে। বৃষ্টির মধ্যেও কাজ থেমে নেই। সরকারের শিল্পী ভাতা আজও পাননি। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবায় তাঁর বাড়ি। শৈশব থেকে তাঁর ঠাকুর গড়ার শখ ছিল। এক মৃৎশিল্পীর সঙ্গেই বিয়ে হয়। সংসারের কাজ, ছেলেমেয়েদের দেখভাল করেও স্বামীর কাজে হাত লাগাতেন। সাত বছর আগে স্বামী কার্তিক দাসের মৃত্যুর পরে সংসারের হাল ধরতে মূর্তি গড়াকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি গড়া শুরু করেন। জেলাজুড়ে পুরুষ শিল্পীদেরই রমরমা। প্রতিযোগিতার মধ্যেও অল্প সময়ে নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছেন। সম্বল বলতে শুধু মূর্তি গড়ার দক্ষতা। জুবিলি মার্কেটে ছোট্ট ঘরে বিশ্বকর্মার মূর্তি ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছে। সঙ্কীর্ণ গলির মধ্যেই দিনরাত প্রতিমা গড়ার কাজ চলছে। বৃষ্টির মধ্যে মূর্তি গড়াও বেশ ঝঞ্ঝাটের। বিশ্বকর্মা পুজোর বেশি দেরি নেই। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ রয়েছে। এই বছর প্রায় ৫০টি মূর্তির গড়ছেন। বৈশাখ মাস থেকে মূর্তি তৈরির উপকরণ জোগাড়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। বৈতা থেকে মাটি আনতে হয়েছে। মূর্তির কাঠামো তৈরির জন্য  ঘোড়াধরা থেকে বাঁশ, বাতা, কাঠ আনতে হয়েছে। কলকাতার বাজার থেকে প্রতিমার শাড়ি, শোলার গয়নাও আনতে হয়েছে। এই বছর আগাম বেশকিছু মূর্তির বায়না রয়েছে। যার কাজ পুজোর দু’-তিন দিন আগে শেষ করতে হবে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নাওয়া খাওয়া ভুলে কাজ করে চলেছেন। ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে ত্রিপল সরিয়ে মূর্তিতে রং করার সময় লক্ষ্মী বলেন, বয়সের কারণে নিজের হাতে সব কাজ করতে পারি না। ছেলে ও হেল্পার আছে। কিন্তু সব কিছু নিজেকেই দেখতে হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে হাত ধরে কাজও শিখিয়েছিল। যেটুকু শিখেছিলাম তার ভরসায় কাজে নেমে পড়ি। সারা বছর ধরেই লক্ষ্মী, গণেশ, বিশ্বকর্মা, রাধাকৃষ্ণ, মা শীতলার মূর্তি বানাই। এসব করেই ছেলেমেয়েদের বড় করেছি। হেল্পারদের কিছু টাকা দিতে পারি। লোকশিল্পী ভাতা পান কি না, প্রশ্ন করায় বলেন, কোথায় আবেদন করতে হয়, কাকে বলতে হয় সেসব কিছুই জানি না। মেয়ে সন্ধ্যা বসু বলেন, বাবা মারার যাওয়ার পর মা আমাদের বড় করেছেন। এখন কাজ করতে নিষেধ করলেও শোনেন না। মূর্তি গড়ার প্রতি টান ও বাবার স্মৃতি ধরে রাখার জন্যেই মনে হয় কাজ করে চলেছেন। জেলা লোকশিল্পী দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, লক্ষ্মী দাস যাতে লোকশিল্পী ভাতা পান সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ