Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের তৃণমূল নেতার নামে ঢুকত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা!

ঘাটাল মহকুমায় দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা ফের একবার প্রকাশ্যে এল।

চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের তৃণমূল নেতার নামে ঢুকত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা!
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমায় দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা ফের একবার প্রকাশ্যে এল। এবার মহিলাদের প্রাপ্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল চন্দ্রকোণা বিধানসভার মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েতের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম উত্তমকুমার সাউ, তাঁর বাড়ি মনোহরপুর গ্রামে। একজন পুরুষ হয়েও তিনি এতদিন ধরে এই প্রকল্পের সরকারি টাকা নিজের পকেটে পুরছিলেন। খবর জানাজানি হতেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক শোরগোল ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Advertisement

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের তালিকায় যে শাসকদলের ওই নেতার নাম রয়েছে তা ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মাধুরী সিংদলুই। তিনি জানান, সোমবারই বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। ২০২১ সালে যখন এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের নাম প্রথম নথিভুক্ত করা হচ্ছিল, তখন কীভাবে ওই যুবকের নাম তালিকায় ঢুকে গেল, তা তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে এবার দ্রুত ওই নেতার নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, উত্তমকুমার শাসকদলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা এবং দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সেই প্রভাব খাটিয়েই তিনি পঞ্চায়েতের একাধিক কাজের বরাত পেতেন। এই বিষয়ে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সবুজ মজুমদারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই সরকারি অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নিজের নামটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় জুড়ে দিয়েছিলেন ওই নেতা। মাসের পর মাস ধরে তিনি এই সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন। সবুজবাবু আরও জানান, বিষয়টি তাঁরা আগে থেকেই জানতেন এবং পঞ্চায়েতের কাছে বারবার উপভোক্তাদের তালিকা চেয়েও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা পাননি। সম্প্রতি তাঁরা কৌশল করে সেই তালিকা জোগাড় করতেই এই জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ে।
যদিও এই কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা উত্তমকুমারের  দাবি, তাঁর নাম তালিকায় থাকলেও তিনি নিজে কখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেননি। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং এবার নিজেই উদ্যোগী হয়ে তালিকা থেকে নাম খারিজ করার আবেদন জানাবেন। তবে এই সাফাইতে চিড়ে ভিজছে না। ঘাটাল মহকুমাজুড়ে যেভাবে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক সরকারি ত্রাণ উদ্ধার ও এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাতের খতিয়ান সামনে আসছে, তাতে এই সহজ সাফাইয়ে মানুষের মন ভিজবে না বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ