Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: নাম বিভ্রাটে ৭ মাস ধরে টাকা পাচ্ছেন না শিলিগুড়ির বধূ

দু’জনের নাম একই। তাতেই বিভ্রাট! সাত মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না শিলিগুড়ির এক বধূ। তাঁর নাম মমতা দাস। শুক্রবার তিনি এ ব্যাপারে পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগে অভিযোগ করেছেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: নাম বিভ্রাটে ৭ মাস ধরে টাকা পাচ্ছেন না শিলিগুড়ির বধূ
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দু’জনের নাম একই। তাতেই বিভ্রাট! সাত মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না শিলিগুড়ির এক বধূ। তাঁর নাম মমতা দাস। শুক্রবার তিনি এ ব্যাপারে পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর টাকা আরএক মমতা দাসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। তথ্য ‘মিসম্যাচের’ কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে পুরসভার সন্দেহ। 

Advertisement

পুরসভার কমিশনার সিরিং ভুটিয়া বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করা হয় মহকুমা শাসকের অফিস থেকে। ওই উপভোক্তার অভিযোগপত্র এসডিও অফিসে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে যা করার সংশ্লিষ্ট অফিস করবে। 
পুরসভায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তদারকি করে দারিদ্র দূরীকরণ ও বস্তি উন্নয়ন বিভাগ। যা ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের অধীনে। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের এক উপভোক্তার টাকা আরএক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। 
৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যাচক্র কলোনিতে মমতাদেবীর বাড়ি। তাঁর স্বামী বলরাম দাস টোটো চালান। দম্পতির দুই সন্তান। ছ’মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় এদিন তিনি পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ ও বস্তি উন্নয়ন সেলে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকেই জানতে পারেন, তাঁর টাকা আরএক মমতা দাসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে! তা শুনে তিনি বিস্মিত। 
ওই গৃহবধূ বলেন, বহুদিন আগে একবার এমন সমস্যা হয়েছিল। সেবারও পুরসভায় অভিযোগ জানিয়ে সব ঠিকঠাক করে গিয়েছিলাম। প্রথমদিকে মাসে ১০০০ টাকা করে পেতাম। এসসি হওয়ায় গত ডিসেম্বর মাসে ১২০০ টাকা পাই। জানুয়ারি মাস থেকে আর টাকা পাচ্ছি না। আমার টাকা আরএক মমতা দাসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বলে পুরসভার অফিসাররা জানিয়েছেন। তাই অফিসারদের পরামর্শ মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা প্রদান বন্ধের আবেদন করলাম। এবার সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাতিল করে আমাকে আবার নতুনভাবে প্রকল্পে শামিল করা হবে বলে পুরসভার অফিসাররা জানিয়েছেন। 
এদিন পুরসভায় আবেদনের সঙ্গে আধারকার্ড ও ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের ফটোকপি জমা দেন ওই বধূ। এনিয়ে পুরকর্তৃপক্ষের একাংশ জানান, উপভোক্তা তালিকায় দু’জন মমতা দাস রয়েছেন। একজনের নামের সঙ্গে আরএকজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জুড়ে গিয়েছে বলেই সন্দেহ। এটা এক ধরনের ‘মিসম্যাচ’। এটার জন্য কে দায়ী তা এখান থেকে বলা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে যা বলার এসডিও অফিস থেকেই বলতে পারবে। পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে শহরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা ৯৩ হাজার ২৭ জন। ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি দাখিল না করায় অনেকেরই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখানে আবেদন করার পর এসডিও অফিসের মাধ্যমে তা ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। কয়েক মাস আগে শাশুড়ির অ্যাকাউন্টে ছেলের বউয়ের, আর বউয়ের অ্যাকাউন্টে শাশুড়ির টাকা ঢুকছিল। তাও মেটানো হয়েছে।
 জল সেচে আটটি সোলার পাম্প: শুক্রবার নাগরাকাটা ব্লকের আংরাভাসা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ও দক্ষিণ ধুমপাড়াতে আটটি সোলার পাম্পের উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ গণেশ ওরাওঁ। উপস্থিত ছিলেন নাগরাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ফুলেশ্বরী রায়, প্রধান শান্তি ছেত্রী। কৃষি অধ্যুষিত এই এলাকায় রাজ্য সরকারের আদমি প্রকল্পের মাধ্যমে আটটি সোলার পাম্পের জন্য প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। আগে কৃষকরা বছরে একটি ফসল চাষ করতেন। কিন্তু এই সোলার পাম্প বসে যাওয়ার ফলে ১২০টি পরিবারেও বেশি কৃষক পরিবার এখন জমিতে তিন ফসলি চাষ করতে পারবেন। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। স্বাভাবিকভাবেই সোলার পাম্প পেয়ে তাঁরা খুশি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ