নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হাওলার কায়দায় অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভিনরাজ্য থেকে টাকা আসছে বাংলায়। কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন হয়ে গেলেও টের পাচ্ছেন না গরিব পরিবারগুলি। যখন তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারছেন, সেই সময় আর কিছু করার থাকছে না। আইনি মারপ্যাঁচে তাঁদের জেরবার হতে হচ্ছে। সম্প্রতি এমনি ঘটনা ঘটেছে, পূর্ব বর্ধমানের মানকরের বেশ কয়েকটি পরিবারে।
তাঁদের দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচিত যুবক বাড়িতে এসেছিল। তারা লোন পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে ভোটার, আধার এবং মোবাইলের সিম কার্ড নিয়ে যায়। এই সমস্ত নথি দিয়েই তারা মেমারিতে একটি ব্যাঙ্কের শাখায় ওই পরিবারের সদস্যদের নামে আকাউন্ট খোলে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতেই ২০ লক্ষর বেশি টাকা ভিনরাজ্য থেকে পাঠানো হয়। সেই টাকা তোলা হয় কলকাতার বিভিন্ন এটিএম থেকে। প্রতারকরা মোবাইলের সিমকার্ড নিয়ে চলে যাওয়ায় ওই পরিবারগুলি প্রথমদিকে টাকা লেনদেনের বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ওই যুবকদের হদিশ না পাওয়ায় পরিবারগুলির সন্দেহ হয়। তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের নথি ব্যবহার করে মেমারিতে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তাঁরা মেমারি ওই ব্যাঙ্কের শাখার আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকেই তাঁরা জানতে পারেন , তাঁদের আকাউন্টগুলি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন হয়ে গিয়েছে। মানকরের বসিন্দর ধনঞ্জয় শুক্লা নামে এক ব্যক্তি বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সেই কারণে বহিরাগত যুবকরা লোন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তাঁদের বিশ্বাস করি। তাঁরা মোবাইলের সিমকার্ড সহ বিভিন্ন নথি নিয়ে চলে যায়। সাতদিনের মধ্যে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সেগুলি ফেরত পাঠানো হবে বলে জানায়। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে যাওয়ার পরেও তা ফেরত না আসায় চিন্তায় পড়ে যাই। পরে জানতে পারি মেমারিতে আমার নামে ব্যাঙ্ক আকাউন্ট খোলা হয়েছে। বাইরে থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তাতে জমা পড়েছিল। তা উঠেও গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মেমারি এবং বুদবুদ থানায় দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আশা করি পুলিস পদক্ষেপ নেবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকদের একটি চক্র বহুদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে নথি হাতিয়ে প্রতারণা করে চলছে। অনেকটা হাওলার কায়দায় তারা টাকা লেনদেন করছে। অন্যের নথি ব্যবহার করার জন্য প্রতারকদের পাকড়াও করা যাচ্ছে না। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সাইবার প্রতারণার টাকা ওই আকাউন্টগুলিতে জমা করা হয়। তবে কোথা থেকে ওই আকাউন্টগুলিতে টাকা জমা হচ্ছে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট থেকে বোঝা যায়। সেটা ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়।