নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারিতে দু’টি ব্যাগে রাশি রাশি টাকা। তবে একশো ও পাঁচশো টাকার নোটগুলি উইয়ে খাওয়া। কলেজের ভিতর তৈরি হয়েছে ‘রেস্টরুম’। যেন ফূর্তির ঠেক। মঙ্গলবার খাস কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের এই চিত্র দেখে তাজ্জব সকলেই। টাকা পাওয়ার ঘটনার পরই তদন্তে নেমেছে মুচিপাড়া থানা। পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন জিএস সহ অন্য নেতাদের বিষয়ে তথ্য নিচ্ছেন তদন্তকারীরা। এদিকে ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের কাছে আসা টাকার অডিট রিপোর্ট রাজ্য চেয়ে পাঠিয়েছে কলেজগুলির থেকে। এই পর্বেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউিনিয়ন রুম সংলগ্ন একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বেডরুম ও টয়লেটের হদিশ মেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ‘টেরেস ফেসিলিটি’ বলে পরিচিত ওই অংশটি উদ্বোধন করেছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ‘কানকাটা দেবু’। তাঁকে ও তাঁর ছেলে শিবাশিসকে ঘিরেই যাবতীয় অভিযোগ আবর্তিত হচ্ছে। ওই ঘর থেকে একটি পিস্তলও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেটি দেবাশিস ওই স্থানে রেখেছিল বলে অনুমান। জানা গিয়েছে, মশার লার্ভা যাতে না হয় সেজন্য পুরসভার আধিকারিকরা এদিন ইউনিয়ন রুমে তেল ছড়াতে আসেন। তাঁরা আলমারির ভিতর তেল দিতে গিয়ে দেখেন, সেটি বন্ধ। কলেজ আধিকারিকদের অনুমতি নিয়ে তালা ভাঙলে দেখা যায়, সেখানে দু’টি ট্রলি ব্যাগ রয়েছে। তাতে ভর্তি উই ধরা টাকার বান্ডিল। মুচিপাড়া থানার অফিসাররা ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করেছেন বলে খবর। চাঞ্চল্য আরও ছড়ায় কলেজের ভিতর সুসজ্জিত একটি বেড রুমের খোঁজ মেলায়। এসি লাগানো ওই রুমে রিফ্রেশ হওয়ার জন্য খাট, অ্যাটাচ বাথরুম সবকিছই ছিল। মদের বোতল ও কনডোম প্যাকেটও পাওয়া যায়। কলেজে কর্মরতদের একাংশের দাবি, এই ইউনিয়নটি নিয়ন্ত্রণ করতেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক তৃণমূল নেতা। তিনি এখানে বিশ্রাম নিতেন, ফূর্তি করতেন। যদিও এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য দেবাশিসবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।



