Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

ট্রেন বাস মেট্রোয় লেডিস বগি ও সিট জরুরি

ট্রেন-বাস বা মেট্রোর মতো গণপরিবহণ যান ব্যক্তিগত নয় ঠিকই। তা সত্ত্বেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করার দাবি রাখে।

ট্রেন বাস মেট্রোয় লেডিস বগি ও সিট জরুরি
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে

Advertisement

 মণিদীপা দাস 
ট্রেন-বাস বা মেট্রোর মতো গণপরিবহণ যান ব্যক্তিগত নয় ঠিকই। তা সত্ত্বেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করার দাবি রাখে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীশক্তির প্রবেশ যে বৃহত্তর কর্মজগতে দৃশ্যমান, একথা নিশ্চিন্তে বলাই যায়। রোজকার যাতায়াতে পরিশ্রম সবাইকে করতে হয়। তবুও অনেক সামাজিক ঘটনা ঘটতেই থাকে যেগুলোর কারণে নিরাপত্তার ক্ষেত্রটি সর্বদা উদ্বেগজনক হয় অনেক মহিলার জন্য। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট মেট্রো-ট্রেন-বাসে লেডিস কামরায় পুরুষ-প্রবেশ নিয়ে কিছু সংশ্লিষ্ট মামলার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তাই গণপরিবহণে লেডিস বগি বা সিট সবসময় জরুরি। 
নার্স

 শাশ্বতী প্রামাণিক 
সব বয়সের মহিলাদের কর্মসূত্রে রোজ বাইরে বেরতে হয়। সেক্ষেত্রে তাদের ট্রেনে, বাসে বা মেট্রোয় চাপতে হয়, যেখানে পুরুষ, নারী, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের যাতায়াত। তাই সেখানে মহিলাদের জন্য আলাদা বগি বা সিট সংরক্ষণ করা না থাকলে মেয়েটিকে ভিড়ের মধ্যে অনেক অপ্রিয় মুহূর্ত পেরিয়ে গন্তব্যেস্থলে পৌঁছতে হয়। তাকে বিভিন্ন রকম কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অপমানজনক বক্তব্য, টিটকিরিরও সম্মুখীন হতে হয়। তাই বর্তমান সমাজের কথা মাথায় রেখে মহিলাদের সুরক্ষার্থে, ট্রেনে বাসে বা মেট্রোয় লেডিস বগি বা সিট থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই নিয়ম সবসময়ই থাকা উচিত বলে মনে করি।
কলেজ ছাত্রী 

 চন্দ্রা শীল
দৈনন্দিন বিশ্বায়নের যুগে নানা চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারী পুরুষ উভয়েই আজ স্বাবলম্বী। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী নারীর তুলনায় আজও পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা বিভিন্ন গণ পরিবহণে বেশি দেখা যায়। উপার্জনের বাইরেও বহু নারীকে বিভিন্ন দরকারে তাদের ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কিংবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসুস্থ পিতা মাতাকে নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সাধারণ কামরায় অতিরিক্ত ভিড়ে বাচ্চা ও নারীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নারীদের জন্য আলাদা সিট বা বগি খুবই দরকার। 
শিক্ষিকা 

 সুমনা মাইতি পাহাড়ী 
বতর্মানে মেয়েরা নিত্যপ্রয়োজনে ট্রেনে, বাসে বা মেট্রোয় যাতায়াত করেন। স্বাভাবিকভাবেই, তাদের ভিড়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমি নিজেই সেই অভিজ্ঞতার শিকার। কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় অনেকবার কিছু অভদ্র ব্যক্তির অসভ্যতা আমাকে অসুবিধেয় ফেলেছে। লেডিস বগি বা‌ সিট থাকাটা তাই মেয়েদের নিরাপত্তার খাতিরে দরকার। একজন শিশুর মা হিসেবেও লেডিস বগি বা‌ সিট থাকাটা আবশ্যক মনে করি। সেক্ষেত্রে শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় মায়েদের অস্বস্তিতে পড়তে হয় না। নিয়মিত যাতায়াতে এধরনের নানা সমস্যায় ট্রেনে,‌ বাসে, বা মেট্রোয় লেডিস বগি বা সিট থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। যা মেয়েদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি প্রদান করে, তাদের জীবনকে অনেক সহজ করে।
গৃহবধূ

বিপক্ষে

 লক্ষ্মীদাস দত্ত
আমার মতে এর কোনও প্রয়োজন নেই, এটা থাকা মানে আবার একটা যেন কোটা সিস্টেম। এই সিস্টেমে ট্রেনে দু’টি বগি বা বাসে দু’টি সিট সংরক্ষিত করে সামগ্রিকভাবে সব মহিলার সুবিধা কখনই হয় না। সমবয়সি সুস্থ একজন পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই ট্রেনে বা বাসে দাঁড়িয়ে যেতে সক্ষম। তাহলে মহিলা সংরক্ষিত আসন করার অন্যতম কারণ কী? অবশ্যই নিরাপত্তা। আর এই নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কারা? কিছু সংখ্যক পুরুষ। আবার সমস্ত মহিলাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য গোটা একটি ট্রেন বা বাস মহিলা সংরক্ষিত করা সম্ভব নয়। তাহলে উপায়? উপায় হচ্ছে সম্মান প্রদর্শন। বয়স্ক পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে তাদেরকে আসন ছেড়ে দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিতে হবে। বাসে, মেট্রোয় বা ট্রেনে মহিলাদের কোনও রকম সম্মানহানির ঘটনা ঘটলে প্রতিবাদ করতে হবে। অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে বলে কারাগারের সংখ্যা না বাড়িয়ে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে, যাতে অপরাধ কমানো যায়। তা ধীরে ধীরে নিশ্চয়ই সম্ভব হবে। তাহলেই আর মহিলা সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজন পড়বে না। 
শিক্ষক

 মিতা ঘোষ
বাসে-ট্রেনে লেডিস বগি বা আলাদা সিট থাকা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে উৎসাহিত করে এবং সমতা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এটি নারীদের দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্বাধীন চলাচল ও আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নারীরা আজ প্রায় সবক্ষেত্রেই পুরুষদের সমান দক্ষ এবং সক্ষম। আলাদা সিট বা বগি বরাদ্দ করলে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে তা বাধা হয়েই দাঁড়ায়। তাঁদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। গণপরিবহণে সকলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। আলাদা ব্যবস্থা নয়, চাই কঠোর আইন, সিসি টিভি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ও সচেতনতা। তাহলেই আর আলাদা সিট বা বগি দরকার লাগবে না।
গৃহবধূ

 বিনয় হালদার 
ট্রেনের মহিলা কামরার যে ভয়ঙ্কর চিত্র মাঝে মধ্যেই স্যোশাল মিডিয়ায় উঁকি দেয়, দেখে তাজ্জব বনে যাই। নারী কি নারীর কাছেও সুরক্ষিত? শুধু যৌন হয়রানির জন্যই ধরলাম একটি কামরার বিভাজন করা হল মহিলাদের জন্য। তার পরেও তো চুল ছেঁড়া মারধর, হুড়োহুড়ি চলছেই । সে নির্যাতন, নির্যাতন নয়? অসুস্থ পুরুষকেও  বাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি সম্পূর্ণ সুস্থ, কর্মঠ নারীর চোখ রাঙানির চোটে। এই ধরনের সুযোগের অপব্যবহার কতটা ভয়ঙ্কর আমরা কি ভেবে দেখি? নারীই কি ভেবে দেখে প্রতিবন্ধীর সঙ্গে তাঁর জন্য সংরক্ষিত আসন কন্টকাকীর্ণ লাগে কিনা? নারী পুরুষ পাশাপাশি যাত্রা করবে, একজনের সুরক্ষার দায়িত্ব অপরজনের। এটাই তো নিয়ম, কি বা প্রকৃতির, কি বা মানুষের । 
থিয়েটার অভিনেতা 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ