নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম ব্লকের চন্দ্রী পঞ্চায়েতের একমাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের দেখা মেলে না। পাওয়া যায়না ওষুধ। হাতির ভয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না। চিকিৎসার জন্য গ্ৰামবাসীদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের এডিএম (জেলা পরিষদ) দিলীপ মিশ্র, বিডিও জয় আহমেদকে সামনে পেয়ে বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন।
এডিএম দিলীপ মিশ্র এদিন বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রর চিকিৎসা পরিষেবা কেমন তা খতিয়ে দেখেছি। রুটিন মেনে চিকিৎসকদের হাসপাতালে থাকার কথা বলা হয়েছে। মানুষ যাতে ঠিকঠাক চিকিৎসা পান তা দেখা হবে। চন্দ্রী পঞ্চায়েতের কুড়ি হাজার মানুষএই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে অ্যালোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথির একজন করে চিকিৎসক, দু'জন নার্স, একজন এএনএম আছেন। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ,হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত পাওয়া যায়না। ওষুধও মেলেনা। বাউন্ডারি দেওয়াল না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের কোয়ার্টারগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা।স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য কুড়ি কিমি উজিয়ে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। হাতির উপদ্রব বাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাইভেট গাড়ি রোগীদের নিয়ে শহরে যেতে চায়না। পাশের ব্লকের হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ১০ শয্যার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল।একদশকের বেশি হয়ে গেল কিছুই হয়নি।শুক্রবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন। স্থানীয় বাসিন্দা নবকুমার কর বলেন, চন্দ্রী এলাকার আউসপাল, জামশোলা, শালজুড়া ছাড়াও জামবনী ব্লকের বাসিন্দারা এখানে আসেন। হাসপাতালে চিকিৎসকদের পাওয়া যায়না। বড় কিছু হলে শহরের হাসপাতালে ছুটতে হয়। চন্দ্রী থেকে সাপধোরা হয়ে ঝাড়গ্রাম শহরে যেতে গেলে কুড়ি কিমি পথ অতিক্রম করতে হয়। হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাইভেট কারও পাওয়া যাচ্ছে না। চন্দ্রীর কুড়ি হাজার মানুষ সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরদের কাছে সমস্যা তুলে ধরেছি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে আসা লক্ষ্মী সিং বলেন, এই হাসপাতালই আমাদের ভরসা। অসুস্থ শরীর নিয়ে বৃদ্ধ বয়সে শহরের হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষমতা নেই।চিকিৎসা পরিষেবা ভালো হলে আমাদের উপকার হবে। চন্দ্রীরতৃণমূল অঞ্চল সভাপতি কমল মাহাত বলেন, ২০১৬ সালে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ১০ শয্যার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তাহয়নি। জেলার সিএমওএইচ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা এদিন চন্দ্রী স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন এসেছিলেন। তাঁদের জানানো হয়েছে। চিকিৎসক ডাঃ আশাদুল আলি খান বলেন,প্রাথমিক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যথাসাধ্য চিকিৎসা করা হয়। তবে আমাদের বাড়তি অন্যান্য কাজও করতে হয়। চিকিৎসা করাতে আসা ব্যক্তিরা তখন মনে করেন আমরা অনুপস্থিত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরাদ্দ ওষুধ না আসার সমস্যা রয়েছে।জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সার্বিক সমস্যার বিষয়টি জানিয়েছি।-নিজস্ব চিত্র