সংবাদদাতা, ডোমকল: বাজারজুড়ে অগোছালো অবস্থায় রয়েছে বিদ্যুতের তারের জটাজাল। সংকীর্ণ গলির পাশে ডাঁই করে রাখা সব্জির ক্রেট। রাস্তার উপরেই ত্রিপল পেতে চলছে সব্জির বিক্রিবাটা। দাঁড় করানো রয়েছে বাইক-সাইকেল, টোটো। একটু এগলেই মিলবে সোনাপট্টির সরু গলি। সেই গলির মধ্যে গোটা কুড়ি দোকান। কিন্তু অগ্নিনির্বাপণের কোনও ব্যবস্থা নেই। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, কোনওদিন যদি এই বাজারে আগুন লাগে তা হলে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার থাকবে না। আগুন নেভাতে পর্যাপ্ত উপকরণের অভাব, সংকীর্ণ রাস্তা সবেমিলিয়ে ডোমকলের সোনাপট্টি, মধ্যবাজার যেন এক জতুগৃহ।
ডোমকল পুরসভার অফিস থেকে কিছুটা এগলেই ১২ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে সোনাপট্টি। ওই গলিতে ঢোকার রাস্তা এতই সংকীর্ণ যে একটি বাইক ঢুকলে সেটি গলি থেকে না বেরোনো পর্যন্ত উল্টোদিক দিয়ে আসা ব্যক্তিকে অপেক্ষা করতে হয়। ডোমকলের বহু প্রাচীন সোনাপট্টি মার্কেটের এই গলির মধ্যে রয়েছে কুড়িটির বেশি দোকানঘর। যার বেশিরভাগই সোনার দোকান। তবে কয়েকটি কাপড়ের দোকানও রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, বেশিরভাগ দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। নেই বালির বস্তা, পর্যাপ্ত জলের উৎস। সবচেয়ে আশঙ্কার কথা ওই বাজারের ভিতরে দমকলের ইঞ্জিন ঢোকার মতো চওড়া রাস্তাও নেই। এমনকী, দমকলের ইঞ্জিন গিয়ে যে ওই সরু গলির সামনে দাঁড়াবে, তারও উপায় নেই। কারণ সোনাপট্টির গলির সামনের রাস্তায় রয়েছে মধ্যবাজারের সব্জি বাজার। বাজারের জন্য আলাদা কোনও জায়গা নেই। রাস্তার উপর ত্রিপল ফেলে চলে সব্জির বিকিকিনি। আর বেশিরভাগ দোকানের উপরেই টাঙানো রয়েছে ত্রিপল। ইতিউতি টাঙানো ত্রিপলের কারণে সরু এই রাস্তায় ঢোকাই মুশকিল হয়ে পড়ে ।
ডোমকলের দমকল কেন্দ্রের ওসি অমর পাল বলেন, ডোমকলের সোনাপট্টি, মধ্যবাজার ভীষণ সংকীর্ণ। আগুন লাগলে ওই রাস্তায় দমকলের গাড়ি ঢুকতে পারবে না। ব্যবসায়ীদের নিজে থেকে অগ্নিনির্বাপণের বন্দোবস্ত রাখা প্রয়োজন। আমরা একাধিকবার ব্যবসায়ীদের এই বিষয়ে বলেছি। কিন্তু তারপরেও অনেকেই সেকথা শোনেননি।
সোনাপট্টির এক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ধরে দোকান রয়েছে। বুঝতে পারছি বিপদ আছে। কিন্তু আমরাই বা কী করব বলুন? সামনের রাস্তাগুলিও যেভাবে দখল হয়ে গিয়েছে, তাতে আরও সমস্যা বাড়ছে।
ডোমকল বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সহ সভাপতি গৌরাঙ্গ দত্ত বলেন, ওই রাস্তা দখল করে যেভাবে ব্যবসা চলছে, তাতে দমকল সেখানে ঢুকতে পারবে না। একাধিকবার বিষয়টি পুরসভাকে জানিয়েছি। বছর দু’য়েক আগে একবার আগুন লেগেছিল। তখনও দমকল ঢুকতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা নিজেরাই আগুন নিভিয়েছিলেন। ডোমকলের বিধায়ক তথা পুরসভার প্রশাসক জাফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুরসভার তরফ থেকে এনিয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হবে। -নিজস্ব চিত্র