সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: পাখির কলতান, রংবাহারি প্রজাপতি উড়ে বেড়ানো পরিবেশে আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করে বক্সার জঙ্গলের ভিতরে রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘর। ১৯০৩ সাল। তখন ইংরেজ আমল। সেই সময় রাজাভাতখাওয়া স্টেশনের লাইনের ঠিক পাশেই তৈরি হয় ডাকঘরটি। ট্রেন স্টেশনে থামলে ডাকঘরের দিকে নজর যায় যাত্রীদের।
একতলা এই ডাকঘরের বিল্ডিংয়ের আজ ভগ্নদশা অবস্থা। প্রথম অবস্থায় দেখলে মনে হবে জঙ্গলের ভিতরে কোনও পোড়ো বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘবছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বিল্ডিংয়ের দেওয়ালে শ্যাওলা জমেছে। গজিয়েছে বট-পাকুড় গাছ। খসে পড়ছে বিল্ডিংয়ের ভিতরের ও বাইরের দেয়ালের পলেস্তারা। বৃষ্টি শুরু হলে আগে ডাকঘরের কর্মীরা তড়িঘড়ি দরকারি কাগজপত্র নিরাপদ জায়গায় সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। কারণ বিল্ডিংয়ের ছাদে চুঁইয়ে জল মেঝেতে পড়ত। সম্প্রতি ছাদের উপর টিন দেওয়া হয়েছে। ফলে কিছুটা রক্ষা এখন। জীর্ণ বিল্ডিংটির দরজা জানালাও ভাঙা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উপ ডাকঘরের বিল্ডিংটির যা অবস্থাতে তাতে মনে হয় যেকনোও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
তবে সংস্কার নয়। স্থানীয়রা রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘরের জীর্ণ বিল্ডিংটি ভেঙে নতুন বিল্ডিং তৈরির দাবি তুলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজাভাতখাওয়া অঞ্চল সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ওই ডাকঘরে গেলে ভয় লাগে। কারণ যেকোনও মুহূর্তে বিল্ডিংটি ভেঙে পড়তে পারে। আমাদের দাবি, সেটি ভেঙে নতুন করে বিল্ডিং করুক প্রশাসন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন। বিজেপির এমপি ও এমএলএরাও রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘরের বেহাল দশা নিয়ে চুপ।
একজন পোস্টমাস্টার সহ রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘরে ছ’জন কর্মী আছেন। যদিও রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শুভাশিস নাথ বিল্ডিংয়ের বেহাল অবস্থা নিয়ে কিছু বলতে চান নি। তিনি শুধু বলেন, এ বিষয়ে যা বলার উপর মহলই বলবে।
তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে এলাকার বিজেপি বিধায়ক বিশাল লামা বলেন, উপ ডাকঘরটি বেহাল অবস্থা সম্পর্কে আমি জানি। শীঘ্রই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।
রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘরের এই অবস্থা নিয়ে কোচবিহার আঞ্চলিক ডাকঘরের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ধ্রুব রায় বলেন, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মাথাভাঙা ডাকঘর ও রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘরের বিল্ডিং সংস্কারের প্রস্তাব উপর মহলে পাঠানো হয়েছে। শুধু সংস্কারই নয়, রাজাভাতখাওয়া উপ ডাকঘরে হলিডে রুম তৈরির প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। নিজস্ব চিত্র