Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কান্দি মহকুমায় শিল্পীর অভাব, বিলুপ্তির পথে রথের সং

কান্দি মহকুমা এলাকায় রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সঙের নাচ। কিন্তু শিল্পীর অভাবে রথে সঙ সাজা বিলুপ্তির পথে যেতে বসেছে।

কান্দি মহকুমায় শিল্পীর অভাব, বিলুপ্তির পথে রথের সং
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সঙের নাচ। কিন্তু শিল্পীর অভাবে রথে সঙ সাজা বিলুপ্তির পথে যেতে বসেছে। রথের দিন ভরদুপুরে সঙ দেখার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করতে দেখা যায় না কাউকে। সঙ সেজে দুঃস্থ শিল্পীদের টাকা সংগ্রহের দৃশ্যও চোখে পড়ে না। এনিয়ে প্রবীণদের গলায় শোনা গেল আক্ষেপের সুর।

Advertisement

প্রায় ৩০বছর আগের কথা। তখন রথযাত্রার আগেই গ্রামের শিল্পীরা কীধরণের সঙ হতে চলেছেন, তা নিয়ে রীতিমতো চর্চা হতো। এনিয়ে গ্রামের মানুষের কৌতূহলের শেষ থাকত না। সঙ সেজে কেউ বউ মারা গিয়েছে বলে সারা গ্রামে কেঁদে বেড়াতেন। কেউ আবার নতুন বউ ঘরে নিয়ে এসেছেন বলে আনন্দ করতেন। তাঁর পিছন পিছন স্ত্রী সেজে একজন পুরুষ ঘুরতেন। তিনি লোকজনের কাছে ঘরে সতীন আনার বিচার চাইতেন। তবে এসবের জন্য শিল্পীদের কোনও বিশেষ সাজপোশাক ছিল না। একেবারে সাদামাটা পোষাকে শিল্পীরা গ্রামের অলিগলি ঘুরে রথের সঙ দেখাতেন। সেইসঙ্গে শারীরিক কসরতও করতেন। কেউ উল্টোদিকে হাঁটতেন। কেউ হাত দিয়ে হাঁটতেন। সঙদের নানা কর্মকাণ্ড দেখে পাড়ায় পাড়ায় হাসির রোল উঠত। বাসিন্দারা খুশি হয়ে শিল্পীদের নগদ টাকা বকশিসও দিতেন। ওই বকশিসের টাকায় শিল্পীরা রথের মেলায় আনন্দ করতেন। ভরতপুর-১ ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মন্মথ মণ্ডল বলেন, রথের সঙ দেখার জন্য বাড়ির বড়দের চেয়ে ছোটদের উৎসাহ বেশি থাকত। দুপুর হতেই রাস্তার পাশে তালাই (তালগাছের পাতা দিয়ে তৈরি মাদুর) পেতে বসে ছোটরা পড়ত। কারণ বিকেল পড়ার আগেই গ্রামের রাস্তা দিয়ে শিল্পীরা সঙ দেখাতে হাঁটতেন। মহকুমার কান্দি, ভরতপুর ১ ও ২ ব্লকে রথের সঙ বেশি প্রচলিত ছিল। এছাড়া, বড়ঞা ব্লকের পূর্বদিকের বিভিন্ন গ্রামেও এর চল ছিল।
তবে এখন সেসব অতীত। বেশিরভাগ এলাকায় রথের সঙ উধাও হয়ে গিয়েছে। ভরতপুরের বাগদিপাড়ার শিল্পী তেনু মাঝি বলেন, আমার বয়স হয়েছে। তাই আর সঙ সাজতে পারি না। আবার এখনকার ছেলেরা এসব পছন্দও করে না। তাই সঙ এখন উঠে যাওয়ার পথে।
সিজগ্রামের প্রবীণ শিল্পী পবন মাঝি বলেন, দেড়দশক আগেও অনেকে সঙ সাজতেন। তবে কয়েকবছর ধরে রথের সঙ কেউ করে না। এবিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ও লোকশিল্পী সঙ্ঘের জেলা সভাপতি পাগলচন্দ্র মণ্ডল বলেন, শিল্পীর অভাবেই রথের সঙ বিলুপ্তির পথে। আধুনিকতার সঙ্গে এর কদর কমেছে। তবে সমাজের দুঃস্থ পরিবারের মানুষই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ