নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এমএসপি আইন কার্যকর এবং শ্রম আইন বাতিলের দাবি সহ একাধিক ইশ্যুতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি পাঠাল আন্দোলনকারী শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনগুলি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ব্যাপারে কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। এদিন রাষ্ট্রপতির কাছে এই মর্মে নালিশ জানিয়ে হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি। যদিও দেশব্যাপী শ্রম আইন কার্যকরের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ধামাচাপা দিতে ইতিমধ্যেই রীতিমতে উঠেপড়ে লেগেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার এই ইশ্যুতে এসবিআই যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, এবার তাকে হাতিয়ার করছে গেরুয়া শিবির। এসবিআইয়ের রিপোর্টের বহুল প্রচারের জন্য ‘নির্দেশ’ গিয়েছে শ্রমমন্ত্রকের কাছে। সরকারি সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এসবিআইয়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এর ফলে সারা দেশে বছরে প্রায় ৭৭ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান হবে। স্বাভাবিক নিয়মেই দেশে অস্থায়ী চাকরির সংখ্যা অনেকটাই কমে যাবে। তুলনায় অনেক বেশি স্থায়ী চাকরি পাবেন কর্মপ্রার্থীরা। একইসঙ্গে এসবিআইয়ের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নয়া শ্রম আইন কার্যকরের ফলে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবায় আওতাধীনের হার পরবর্তী দু’থেকে তিন বছরের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ হয়ে যাবে। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবায় আওতাভুক্তদের হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। শ্রম আইন চালুর পর ২০২৫ সালেই তা বেড়ে হবে প্রায় ৬৪.৩০ শতাংশ। কারণ এই আইনের ফলে ‘গিগ’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম’ কর্মী সমেত সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় আসবেন। এসবিআইয়ের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে সারা দেশে বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ। চার শ্রম আইনের সুফল মিললে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে এই বেকারত্বের হার কমে দাঁড়াবে ২.৯ শতাংশে।
এসবিআই রিপোর্টে আশা করা হয়েছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের যেমন সুরাহা মিলবে। তেমনই নয়া চারটি শ্রম আইন কার্যকরের ফলে দেশের ফর্মাল সেক্টরেও বিপুল অগ্রগতি হবে। ফর্মাল সেক্টরের কর্মী হার ৬০.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হতে পারে ৭৫.৫ শতাংশ। এমনকী ‘কনজাম্পশন বুস্টে’র দিকেও দিশানির্দেশ করা হয়েছে এসবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে। অর্থাৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কেনা এবং দরকারি পরিষেবা গ্রহণে একটি পরিবার যে টাকা খরচ করে, তার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার দাবি করা হয়েছে এসবিআইয়ের রিপোর্টে। এর ফলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যদিও এসব প্রচারে বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আজ, বুধবারই দেশব্যাপী শ্রম আইনের প্রতিলিপি পোড়ানোর ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী শ্রমিক এবং কৃষক সংগঠনগুলি।