সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: লো ভোল্টেজ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিষ্ণুপুরের পাঁচটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার লক্ষাধিক বাসিন্দাকে এবার আর গরমে কাহিল হতে হবে না। বহু বছরের দাবি মেনে কয়েকদিন আগে বিষ্ণুপুরের রাধানগরে নতুন একটি সাব স্টেশন চালু হয়েছে। সেখান থেকেই পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ। এতে স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ দপ্তরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির বিষ্ণুপুর ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার অনিরুদ্ধ মণ্ডল বলেন, রাধানগর সাব স্টেশন কয়েকদিন আগেই চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে সব মিলিয়ে ১৮০কিলোমিটারজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। আপাতত দু’টি পঞ্চায়েত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাকি তিনটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বিদ্যুতের লাইন জুড়ে দেওয়া হবে। সাবস্টেশন মেন্টেনেন্সের জন্য কর্মীও নিযুক্ত করা হয়েছে। এবার থেকে লো ভোল্টেজ এবং লোডশেডিংয়ের সমস্যা থাকবে না।বহু বছর ধরে সাব স্টেশনের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলন করে আসছেন। ওই আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা ভড়া কলেজ পরিচালন কমিটির সভাপতি গোরাপদ দে বলেন, গরমকাল এলেই বিষ্ণুপুরের পাঁচটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা প্রবল সমস্যায় পড়েন। লো ভোল্টেজের কারণে পাখা চলে না। গরমে কাহিল হতে হয়। পাম্প না চলায় পানীয় জলের সমস্যায় ভুগতে হয়। এছাড়াও জমিতে সেচের জন্য সাব মার্সিবল পাম্পও চলে না। চাষিরা বিপাকে পড়েন। শুধু তাই নয়, আকাশে মেঘ উঠলেই লোডশেডিং হয়ে যায়। কয়েক দশক ধরে ওই সমস্যা চলে আসছে। এনিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরে বহুবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ আন্দোলনও হয়েছে। এমনকী নবান্নেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাধানগরে নতুন সাব স্টেশন মঞ্জুর হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরেই কয়েকদিন আগে তা চালু করা হয়েছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি হয়েছি।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের সাবস্টেশন থেকে বেশি দূরত্বের কারণে ভড়া, লায়েকবাঁধ, রাধানগর, উলিয়াড়া ও অযোধ্যা এই পাঁচটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন লো ভোল্টেজ এবং লোডশেডিংয়ের সমস্যায় ভুগছেন। বাম আমল থেকে ওই সমস্যা চলে আসছে। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে বহুবার আন্দোলন করেছেন। রাধানগর বিদ্যুৎ দপ্তরের সাপ্লাই অফিসে বাসিন্দারা একাধিকবার ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পরবর্তীকালে প্রয়োজন বুঝে বিদ্যুৎ দপ্তর নতুন সাবস্টেশন তৈরির জন্য বিদ্যুৎ ভবনে প্রস্তাব পাঠায়। একই সঙ্গে বাসিন্দারাও প্রশাসন থেকে শুরু করে দপ্তরের শীর্ষস্তরে চিঠি পাঠান। বিষয়টি নবান্নেও পৌঁছনো হয়। দু’বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী তা মঞ্জুর করেন। এতদিন নির্মাণকাজ চলার পর কয়েকদিন আগে তা চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে আপাতত লায়েকবাঁধ ও অযোধ্যা এই দু’টি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাকি তিনটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকাতেও তা সরবরাহ হবে।



