Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্যানেলের দু’পাড় দখলমুক্তের নির্দেশ 

ক্যানেলের দু’পাড় দখলমুক্তের নির্দেশ 
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সেচ ক্যানেলের দু’ পাড় ছেয়ে যাচ্ছে অবৈধ নির্মাণে। অভিযোগ, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ লাগোয়া এলাকায় বসবাসকারী সকলেই যে ভূমিহীন, তা নয়। সেচ ক্যানেলের একাংশ বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করছেন এলাকারই একাধিক বিত্তশালী পরিবার ও জমি মাফিয়ারা। তাঁরা বাড়ি, দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়ায় খাটাচ্ছেন। আর সেচখাল ক্রমশ সরু হচ্ছে। এর আগে একাধিকবার ক্যানেলপাড় দখলমুক্ত করতে নোটিস দিয়েছিল সেচদপ্তর। কিন্তু দখলমুক্ত করা যায়নি। এবার কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ২ জানুয়ারির মধ্যে সরকারি জায়গা খালি করার নোটিস সাঁটিয়েছে সেচদপ্তর। ভূমিহীনরা অবশ্য বলছেন, বিত্তশালীদের জন্য তাঁদের উচ্ছেদের মুখে পড়তে হল। অসহায় মানুষগুলি এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছেন। আশিসবাবু বলেন, ক্যানেলের জল যাওয়ার জায়গা পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সেচদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। 
Advertisement
ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে আসা এই সেচ ক্যানেলের উপর নির্ভর করে তিন ফসলি জমিতে চাষাবাদ করেন চাষিরা। সেচ খালের পাড় যাতে ধসে না যায় তাই পাড় বরাবর প্রচুর গাছ লাগানো আছে। সেই গাছ কেটেই পাড় দখল চলছে দীর্ঘদিন ধরে। আগে সহায় সম্বলহীন মানুষ ছিটেবেড়ার ঘর করে সেখানে থাকত। বছর তিনেক ধরে সেই সেচখালের একাংশ বুজিয়ে পাকা বাড়ি, দোকানঘর নির্মাণ চলেছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এখানে হাতেগোনা কয়েকজন ভূমিহীন। অধিকাংশই বড় ব্যবসায়ী ও ধনী পরিবার। পাশেই মেডিক্যাল কলেজ হওয়ায় জায়গাটি ব্যবসার পক্ষে উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। তাতেই সেচ খাল বুজিয়ে দোকানঘর ও বাড়ি বানানোর হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েগছ। 
চাষিরা বলেন, যে ভাবে সেচ খালের একাংশ বুজিয়ে নির্মাণ চলছে তাতে আগামীদিনে সেচের জল পাওয়া যাবে না। তাছাড়া বৃষ্টির জল বেরতে না পেরে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। সেই সঙ্গে নোংরা, আবর্জনা পড়ে সেচ খালের গভীরতাও কমে এসেছে। পাড় দখল করে কেউ ইন্টেরিয়র ডেকরেশনের দোকান, কেউ হোটেল করেছে। কোথাও আবার পাড় বুজিয়ে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন, প্রশাসনের একাংশের মদতে ক্যানেল পাড়ে দখলদার বেড়েছে। অবৈধ দোকান ও বাড়ির সুবিধার্থে পানীয় জলের ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ সবই করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে একাধিকবার সেচদপ্তর ক্যানেল পাড় দখলমুক্ত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু করতে পারেনি। এবার অবশ্য কড়া সেচদপ্তর। গত ১৭ ডিসেম্বর এলাকায় নোটিস সাঁটিয়ে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করে দিতে হবে। অন্যথায় দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। 
রামপুরহাট সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বরুণ দাস বলেন, এর আগে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য নোটিস দিয়েছিলাম। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাড় খালি করা না হলে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটব।
ভূমিহীন তুলারানি মণ্ডল বলেন, ৩৫ বছর ধরে এখানে মাটির ঘর বানিয়ে বসবাস করছি। কোনওদিন উচ্ছেদ হুমকির মুখে পড়তে হয়নি। বিত্তশালীরা এসে বড় বড় বাড়ি, নার্সিংহোমে করায় প্রশাসনিক কোপের মুখে পড়তে চলেছি আমরা। আমরা যারা ঝুপড়ি বানিয়ে বসবাস করছি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সহনাভূতিশীল হলে ভালো হয়। 
সম্পর্কিত সংবাদ