ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (মহারাষ্ট্র): শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এই পাঁচ ইস্যুকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলায় নজর দেবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই লক্ষ্যেই আগামী মাসে গোটা দেশে ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি নিয়ে মতামত সংগ্রহ করা হবে। সংগঠনের দু’দিনের কোর কমিটি মিটিংয়ের শেষে বৃহস্পতিবার একথা জানালেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। মহারাষ্ট্রে নিজের খাসতালুক ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন দিপকে। তিনি জানিয়ে দেন, আপাতত নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রবেশ করার পরিকল্পনা নেই। জনতার বিভিন্ন সমস্যাগুলি নিয়ে ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসাবে কাজ করবে তাঁর সংগঠন। দিপকে বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করবে সিজেপি। একেবারে স্কুলস্তর থেকে শিক্ষার খরচ সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রকে মুনাফা লোটার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা এটাকে বদলাতে চাই।
এদিন দিপকে বলেন, দেশজুড়ে ‘ক্যায়া বলতি পাবলিক’ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কী ভাবছেন, তাঁরা কী ধরনের সমস্যাগুলির মুখোমুখি হচ্ছে, কর্মসূচি চলাকালীন সেসব সম্পর্কে আমরা জানতে পারব। দিপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাঁদের কর্মকাণ্ড শুধু শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজনৈতিক ব্যবস্থা হোক কিংবা, বিচারবিভাগ, সংবাদ মাধ্যম ও নির্বাচন কমিশন— সাধারণ মানুষ এইসব প্রতিষ্ঠানের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন। এটাই বাস্তব। প্রতিষ্ঠানগুলির দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জনমতের চাপ তৈরির চেষ্টা করবে সিজেপি। আমার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা খুব খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। কর্মসংস্থানের সমস্যা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সেটিকে দেশজুড়ে সামনে আনার চেষ্টা চালাবে সংগঠন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে দিপকে এদিন বলেন, দেশজোড়া ছাত্র আন্দোলনের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য হল শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। গত ১০-১২ বছর ধরে এই সরকার যে ভীতি সৃষ্টি করেছিল, এখন মানুষের মন থেকে সেই ভয় দূর হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন আতঙ্ক ভুলে রাস্তায় প্রতিবাদে নামছেন। আজ তাঁরা একজনের ইস্তফা চাইছেন, আগামী কাল অন্যদের পদত্যাগ চাইবেন তাঁরা। উন্নত ভারত গঠনে বাবাসাহেব আম্বেদকর, গান্ধী ও নেহরুর আদর্শ মেনে কাজ করবে সিজেপি। ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত মতাদর্শই আমাদের মতাদর্শ। দেশজোড়া কর্মসূচির প্রাণকেন্দ্রে থাকবে তরুণ সমাজ। দেশের ৬০ শতাংশের বেশি জনতার বয়স ৩৫-এর নীচে।