সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কিতে বনবিভাগের জমি জবরদখল রুখতে বৃক্ষরোপণ করে ফেন্সিং লাগিয়ে দেওয়া হল। মঙ্গলবার স্থানীয় মনসাবস্তি সংলগ্ন বনদপ্তরের জমিতে কার্শিয়াং বনবিভাগ ও সিকিম পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেড যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি করে। তাতে বনদপ্তরের এক হেক্টর জমিতে প্রায় এক হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়।
উল্লেখ্য, পানিট্যাঙ্কির সতীশ চা বাগানের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে মেচি মার্কেট। ইতিমধ্যে লিজের অতিরিক্ত জমি দখলের অভিযোগে তৃণমূলের শ্রমিক নেতা তথা ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হান্দ্রু ওরাওঁ গ্রেপ্তার হয়েছে। ওই চা বাগান ঘেঁষে টুকরিয়াঝাড় বনাঞ্চল রয়েছে। ইদানিং ওই বাগানের একাংশ জমি দখল করে গড়ে উঠেছে জনপদ। যা মনসাবস্তি নামে পরিচিত। এবার চা বাগানের জমি বাদ দিয়ে বনবিভাগের জমিতে নজর জমি মাফিয়াদের। ইতিমধ্যে এলাকার ফরেস্টের জমিতে মন্দির তৈরি করা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বনকর্মীদের ঝামেলা হয়েছে। তাই সিকিম পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেডের আর্থিক সাহায্য নিয়ে জমিদখল রুখতে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা কিছুদিন আগে নেয় কার্শিয়াং বনবিভাগ।
যদিও এদিন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে, সিকিম পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আয়প্পা, এডিএফও রাহুলদেব মুখ্যোপাধ্যায়, টুকরিয়াঝাড়ের রেঞ্জার সুরজ মুখিয়া সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। আয়প্পা বলেন, সিকিম থেকে বিহারের কিষানগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিমি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করি আমরা। এদিন কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা সিএসআর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে গাছ লাগানো হল।
কার্শিয়াংয়ের ডিএফও বলেন, শুধু চারা গাছ রোপণ করাই নয়, তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ফেন্সিং লাগিয়ে দেওয়া হল। গাছপালার সংখ্যা বাড়লে বনের জমি জবরদখল বন্ধ করা যাবে।