Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাউন্সিলার পিটিয়ে জেলবন্দি বেআইনি বাড়ি মালিকের পাশে বিজেপি

কাউন্সিলার পিটিয়ে জেলবন্দি বেআইনি বাড়ি মালিকের পাশে বিজেপি
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে গিয়ে বেড়ধক মার খেয়েছিলেন তমলুক পুরসভার কাউন্সিলার অলোক সাঁতরা। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে রেজ্যুলিউশন করে বুধবার অভিযুক্তের দোকানঘর ভেঙে ফেলা হল। এদিন তমলুক পুরসভার ১৭নম্বর ওয়ার্ডে শালগেছিয়ায় জেসিবি দিয়ে ওই দোকান ভাঙা হয়। পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়, কাউন্সিলার অলোকবাবু, এগজিকিউটিভ অফিসার সুমিত বসুর উপস্থিতিতে পুরসভার জমির উপর ওই নির্মাণ জেসিবি দিয়ে ভাঙা হয়। তারপরই বিজেপির কাউন্সিলার জয়া দাস নায়েক ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে বচসায় জড়ান। পুরসভার জায়গায় এবং সরকারি জমিতে আরও অনেক দোকানঘর থাকলেও শুধু মহাদেব মণ্ডলের দোকান ভাঙা হল কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
Advertisement
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তমলুক শহরে শালগেছিয়ায় পুরসভার জমিতে নির্মাণ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ওই জায়গায় উপর মহাদেব মণ্ডল নামে এক বিজেপি সমর্থকের দোকান আছে। সেই দোকান বড় করার জন্য কংক্রিটের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কাউন্সিলার অলোকবাবু। মহাদেব ও তাঁর পরিবারের অন্যদের সঙ্গে বাদানুবাদ চলাকালীন কাউন্সিলারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে শারীরিকভাবে নিগৃহীত হন তাঁর ছেলে অর্ঘ্যদীপ। ওই ঘটনায় মহাদেব ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেন কাউন্সিলার। পুলিস মহাদের মণ্ডলের ছেলে গৌতমকে গ্রেপ্তার করে। এই মুহূর্তে সে জেল হেফাজতে রয়েছে।
পুরসভার জায়গায় বেআইনি নির্মাণের ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে কাউন্সিলার নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় পুরকর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বোর্ড অব কাউন্সিলার্সের মিটিংয়ে পুরসভার জায়গায় অবস্থিত অভিযুক্তের দোকান ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়। তারই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত ৩ফেব্রুয়ারি পুরসভার পক্ষ থেকে মহাদেব মণ্ডল সহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে নোটিস দেওয়া হয়। অবৈধ দোকানঘর এলাকায় সেই নোটিসের কপি সাঁটানো হয়। নোটিস ইস্যু করার ৪৮ঘণ্টার মধ্যে ওই নির্মাণের সপক্ষে নথি জমা দিতে বলা হয়। নোটিস পাঠানোর এক মাসের ব্যবধানে এদিন দোকানঘর ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়।
বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ জেসিবি নিয়ে শালগেছিয়ায় পৌঁছে যান চেয়ারম্যান ও তাঁর টিম। মহাদেব মণ্ডলদের দোকানঘর ভাঙা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, গত ২৩তারিখের ঘটনায় মহাদেব, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। ওই ঘটনায় তাঁর এক ছেলে গ্রেপ্তার হয়। বাকি তিনজন বেপাত্তা। তাই পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস ইস্যু হলেও অভিযুক্তরা কেউ নথি নিয়ে পুরসভায় হাজির হননি। পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় বলেন, শালগেছিয়ায় পুরসভার জমিতে বেআইনি নির্মাণকাজ চলছিল। সেই কাজ বন্ধ করতে গিয়ে শারীরিকভাবে নিগৃহীত হন স্থানীয় কাউন্সিলার অলোকবাবু। ওই ঘটনায় আমরা অভিযুক্তদের নোটিস দিয়ে নির্মাণ সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা করতে নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অভিযুক্তরা পুরসভায় আসেননি। এরপরই পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে তাঁদের দোকানঘর ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার তা কার্যকর করা হয়েছে।
বিজেপি কাউন্সিলার জয়া দাস নায়েক বলেন, কাউন্সিলারকে হেনস্তা করা ঠিক হয়নি। কিন্তু, ওই ঘটনায় পুরসভার চেয়ারম্যান ও তাঁর টিম প্রতিহিংসাবশত জেসিবি দিয়ে দোকান ভাঙলেন। গোটা শহরে সরকারি জায়গায় অনেকের দোকান রয়েছে। সেদিকে পুরকর্তৃপক্ষের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ