Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাউন্সেলর নেই, মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে হচ্ছে না সচেতনতা, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের আই ব্যাঙ্ক কর্নিয়া শূন্য

কাউন্সেলর নেই, মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে হচ্ছে না সচেতনতা, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের আই ব্যাঙ্ক কর্নিয়া শূন্য
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: বছর গড়াতেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্নিয়া গ্রাফটিং বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ২০২৪  সালের ১৭ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আই ব্যাঙ্ক ও কর্নিয়া গ্রাফটিং শুরু হয়েছিল। 
Advertisement
উত্তরবঙ্গে সরকারি হাসপাতালে প্রথম কর্নিয়া গ্রাফটিং এবং আই ব্যাঙ্ক শুরু হওয়ায় মরণোত্তর চক্ষুদান আন্দোলনে নতুন মাত্রা পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন সকলে। বহু গরিব মানুষ কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদন করে অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে মরণোত্তর চক্ষুদান সচেতনতা গড়ে তোলা যায়নি। আর সেকারণেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে লক্ষ লক্ষ টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে। কর্নিয়া শূন্য আই  ব্যাঙ্ক। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। ফলে অনেক বুঝিয়েও মৃতের পরিবারের থেকে কর্নিয়া দানের সম্মতি মিলছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই যুক্তি মানতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। কারণ বেসরকারি উদ্যোগে শিলিগুড়িতে আই ব্যাঙ্ক চলছে। সেখানে সাফল্যের সঙ্গে একের পর এক কর্নিয়া গ্রাফটিং হচ্ছে। তাহলে সরকারি পরিকাঠামোয় কেন তা সম্ভব হবে না। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মরণোত্তর চক্ষুদানে কর্নিয়া সংগ্রহের কাজে কাউন্সেলর প্রয়োজন। এখানে কোনও কাউন্সেলর নিয়োগ করা হয়নি। ফলে হাসপাতালে আসা রোগীদের মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারকে বুঝিয়ে কর্নিয়া সংগ্রহের কাজ হচ্ছে না। তাই কর্নিয়া গ্রাফটিং শুরু হয়েও কয়েক মাসের মধ্যে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। 
হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, কাউন্সেলর না থাকায় নার্স ও ডাক্তারদের মাধ্যমে এই দিকটি ভাবা যেতে পারত। তাহলে কর্নিয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতো না। সমস্যার এখানেই শেষ নয়। কর্নিয়া সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণের জন্য যে মিডিয়ামের দরকার তাও এখানে অমিল। হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, হায়দরাবাদ ছাড়া এই মিডিয়াম পাওয়া যায় না। আমরা আবেদন পাঠিয়েছি। আশা করি, শীঘ্রই মিডিয়াম চলে আসবে। 
জাতীয় অন্ধত্ব নিবারণ প্রকল্পের দার্জিলিং জেলার নোডাল অফিসার ডেপুটি সিএমওএইচ-২ আনোয়ার হোসেন মেনে নিয়েছেন কর্নিয়ার অভাবে কর্নিয়া গ্রাফটিং বন্ধ হওয়ার কথা। তিনি বলেন, ওবিসি সার্টিফিকেট মামলায় আদালতের নির্দেশে কোনও নিয়োগ করা যাচ্ছে না। সেই কারণে আমরা কাউন্সেলর পেয়েও নিয়োগ করতে পারছি না। ফলে মরণোত্তর চক্ষুদানে মৃতের পরিবারকে বুঝিয়ে সম্মতি আদায়ের কাজ চালাতে পারিনি। এই জটিলতা না কাটা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ