সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার পরই কুনকি হাতি জোনাকিকে আপাতত সব কাজ থেকে অব্যাহতি দিল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এদিন দুপরে রাজাভাতখাওয়ার মধু গাছতলায় রেল লাইনের ধারে মহড়ার সময় ইন্ট্রুশন ডিভাইস সিস্টেমের (আইডিএস) বেসরকারি সংস্থার বিশেষজ্ঞ সন্দীপ চৌধুরীকে পিষে দেয় কুনকি হাতিটি। তারপরেই হাতিটিকে সব কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বনদপ্তর। কুনকিকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বক্সা কর্তৃপক্ষ।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেন বলেন, এদিনের দুর্ঘটনার পর কুনকি হাতি জোনাকিকে আপাতত জঙ্গলের সব কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কুনকিটি কেন এই আচরণ করল বন্যপ্রাণী চিকিৎসককে দিয়ে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত কুনকিটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পোষা হাতিটি এদিন হঠাৎ করে কেন এমন আচরণ করল তা নিয়ে বনদপ্তরও চিন্তিত। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলেন, যতই পোষা হোক হাতি তার বন্যতা হারায় না। প্রখ্যাত হস্তিবিশারদ পার্বতী বড়ুয়া বলেন, যতই পোষা হোক উত্যক্ত করলে হাতিও বিরক্ত হয়ে মেজাজ হারায়। মনে হচ্ছে ট্রেন দেখেই কুনকিটি বিরক্ত হয়ে মেজাজ হারিয়েছিল। তারপরেই এদিন এই কাণ্ড ঘটিয়েছিল। তাই কুনকিদের সঙ্গেও সাবধানে মেলামেশা করা উচিত।
প্রসঙ্গত, এদিন বক্সার মধু গাছতলায় ইন্ট্রুশন ডিভাইস সিস্টেমের মহড়ার সময় কুনকিটির পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন সন্দীপবাবু। সেই সময় ভিস্টাডোম ট্যুরিস্ট ট্রেনটি আসছিল। ট্রেন দেখে হাতিটি বিগড়ে যায়। মাহুত সেই সময় সন্দীপবাবুকে চিৎকার করে হাতিটির পাশ থেকে সরে যেতেও বলেছিলেন। কিন্তু সন্দীপবাবু মাহুতের চিৎকারে কান দেননি। আর সেটাই কাল হল সন্দীপবাবুর।