নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ক্যামেরার সামনে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এখনও কীভাবে তিনি বাইরে? বৃহস্পতিবার বারাসত থানায় হাজিরা দিতে এসে প্রশ্ন তুললেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নারদাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে কাকলিকে আক্রমণ করলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সিবিআইকে চিঠি পাঠাবেন। পালটা কাকলির বক্তব্য, উনি একজন আইনসভার সদস্য। ওঁকে আগে আইনটা জানা উচিত।
ঘটনার সূত্রপাত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ঘিরে। কুণালের বিরুদ্ধে পরিবারকে অপমান ও হেনস্তার অভিযোগ করেন এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ একগুচ্ছ নথি হাতে বারাসত থানায় পৌঁছন কুণাল। সঙ্গে ছিল শব্দকোষ ও অভিধান। থানার তদন্তকারী আধিকারিক তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, সমাজমাধ্যমে কে কার পোস্টে কী কটূক্তি করছেন, তার দায় তিনি নেবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তদন্তকারী আধিকারিক তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করেছেন বলে জানান কুণাল। তাঁর দাবি, সেই পোস্টে কারও নাম বা পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। পোস্টে ছিল একটি ভিনগ্রহের প্রাণীর ছবি। তাতে আমি কারও নাম লিখিনি। অভিযোগকারী কীভাবে ওই ছবি দেখিয়ে দাবি করতে পারেন, যে তাঁর মান হানি হয়েছে? কাকলি ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল, কালীঘাট তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত আইটি সেল সমাজমাধ্যমে তাঁদের হেনস্তা করছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কাকলি। অন্যদিকে, কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার বলেন, কুণালের পোস্ট করা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে তাঁর মায়ের ছবি ছিল। আমাকেও ছাপার অযোগ্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়। কুণালের ছবি পোস্ট করার পর কমেন্ট বক্সে তাঁকে এবং তাঁর মা কাকলিকেও অনেকে আক্রমণ করেন। নারদাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলার সময় কুণাল বলেন, কাকলির সঙ্গে তাঁর এক সময়ের সম্পর্ক ভালো ছিল। এতবছর তৃণমূলের টিকিটে জিতে মমতাদি, মমতাদি বলতেন। ৪ তারিখের পর তাঁরা বিজেপির বি টিম হয়ে কাজ করছেন। কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কের আরও বক্তব্য, আমি এসএসকেএম হাসপাতালে যাব। কোনো চিকিৎসকের এমন ক্লিনিক রয়েছে কি না, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সুযোগ নিয়ে সরকারি পরিকাঠামো বাণিজ্যিক রেটে চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার আবেদন করব। পালটা কাকলির জবাব, উনি আইনসভার সদস্য। আগে আইনটা জানা উচিত। এটা অনেক পুরানো মামলা, নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। এই টাকা আমি ডোনেশন হিসাবে নিয়েছি। ইলেকশন কমিশনকে সেই হিসাবও দেওয়া আছে। আর সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে সেটা কালীঘাট তৃণমূল জানে, সেটা বলুক কুণাল। এমন লোক আইনসভায় আসে কীভাবে সেটাই লজ্জার।