Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১৫ মিনিটের স্থানীয় টর্নেডোতে লন্ডভন্ড রায়দিঘির কুমরোপাড়া, ৫০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ভেঙে পড়ল গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি

মাত্র ১৫ মিনিটের স্থানীয় টর্নেডো। মঙ্গলবার সকালে তাতেই লন্ডভন্ড হয়ে গেল রায়দিঘির কুমড়োপাড়া পঞ্চায়েত এলাকা

১৫ মিনিটের স্থানীয় টর্নেডোতে লন্ডভন্ড রায়দিঘির কুমরোপাড়া, ৫০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ভেঙে পড়ল গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: মাত্র ১৫ মিনিটের স্থানীয় টর্নেডো। মঙ্গলবার সকালে তাতেই লন্ডভন্ড হয়ে গেল রায়দিঘির কুমড়োপাড়া পঞ্চায়েত এলাকা। ৫০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানিয়েছে মথুরাপুর ২ নং ব্লক প্রশাসন। রাস্তায় উপড়ে পড়েছে অনেক গাছ। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। গোটা এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। টর্নেডোর ওই দাপটের মধ্যে মানুষ কোনোওরকমে  ঘর থেকে বেরিয়ে এসে প্রাণ বাঁচান। অনেক ঘরে টিভি, রেডিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গাছ সমেত রাস্তা ধসে গিয়েছে একাধিক জায়গায়। ঘরের চাল, আসবাবপত্র চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যেতে দেখে ভেঙে পড়েছে বহু পরিবার। ভয়ানক টর্নেডোর খবর পেয়ে ব্লক প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকায় পৌঁছন স্থানীয় বিধায়ক ডঃ অলোক জলদাতা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রিপল তুলে দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের শুকনো খাবার ও জল, থাকার জন্য স্কুলবাড়িতে ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।  বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরাও কাজ শুরু করেছেন এদিনই। বিধায়ক বলেন, ‘সকাল ৯টার সময় স্থানীয়ভাবে টর্নেডো হয় এখানে। ১৫ মিনিটে তছনছ করে দিয়েছে তিনটি পাড়া। ৫০-এর বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ বিডিও নাজির হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়হীনদের জন্য স্কুলে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে।’

Advertisement

এদিন, কুমড়োপাড়া পঞ্চায়েতের উত্তর- মধ্য কুমড়োপাড়া, উত্তর শংকরঘেরি, কাছারিপাড়াতে টর্নেডোর তাণ্ডব চলে। বেশ কয়েকটি বাড়ির অ্যাসবেস্টস ও টিনের  ছাউনি উড়ে গিয়ে অন্যত্র পড়েছে। গৃহবধূ মানসী মণ্ডল বলেন, ‘হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে গেল। তারপর  হঠাৎ ভয়ানকভাবে হাওয়া বইতে শুরু করল। ভাগ্যিস ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। তাই রক্ষা পেয়েছি। মোবাইল ফোন, টিভি, পাখা  সব শেষ। ঘরের চাল উড়ে গিয়ে অন্য লোকের বাগানে গিয়ে পড়েছে। ছেলের স্কুলের পোশাক, মশারি সব উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে। কোথায় গিয়ে পড়েছে, জানি না।’ সমীর কয়াল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘৫০ বছর বয়স আমার। এমন টর্নেডো দেখিনি। পুরো পাক দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেল সবকিছু। কখন বিদ্যুৎ আসবে, জানা নেই। কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়েছে। খড়ের গাদা পড়ে গিয়েছে রাস্তার উপর। গবাদি পশু ও মানুষের প্রাণহানি হয়নি, এটাই রক্ষে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ