নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রীতি মেনে জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষ্যে খানাকুলের রাজহাটিতে অনুষ্ঠিত হল কুমারী কার্নিভাল। এই কার্নিভাল দেখতে বহু জায়গা থেকে বাসিন্দারা ভিড় জমান। কুমারীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাস্তা পরিক্রমা করে। এই কার্নিভালে ১৪টি জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি অংশ নেয়। আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে কুমারী কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ২৯ বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে কুমারী কার্নিভাল। রাজহাটি, ভীমতলা, নন্দনপুর, মধ্যারঙ্গ প্রভৃতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বড় আকারে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও খানাকুল ১ ও ২ ব্লকের অন্যান্য এলাকাতেও জগদ্ধাত্রী পুজো হয় ধুমধাম করে।
উদ্যোক্তাদের অনেকেই বলেন, খানাকুলের বিভিন্ন অংশে দুর্গাপুজো পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে। বিগত দিনে বন্যা পরিস্থিতি হয়েওছে। ফলে সেখানে জগদ্ধাত্রী পুজোর আরাধনা হয় ধুমধাম করে। জগদ্ধাত্রী পুজোরই অঙ্গ হিসেবে কুমারী কার্নিভালও হয়ে আসছে। এবছর নানা থিমে সজ্জিত হয়েছে জগদ্ধাত্রী পুজো মণ্ডপ। কয়েকদিন ধরে সেখানে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছেন উদ্যোক্তারা।
বৃহস্পতিবার কুমারী কার্নিভাল ঘিরে যান নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। এমনকী, ব্যাপক ভিড় হওয়ায় প্রচুর পুলিশও মোতায়েন করা হয়। মহিলাদের নিরাপত্তায় রাখা হয় উইনার্স টিমকেও। এছাড়া দমকল বাহিনীও ছিল। বিকেল থেকে বিভিন্ন পুজো কমিটি কুমারীদের নিয়ে রাস্তাতেই অনুষ্ঠান করতে করতে কার্নিভালে অংশ নেয়। রাজহাটি বাজার পরিক্রমা করে কার্নিভালে অংশ নেওয়া পুজো উদ্যোক্তারা নিজেদের মণ্ডপে যায়। এদিন কার্নিভালে বহু দর্শনার্থী আসেন। কার্নিভালে বিনোদন, সমাজ সচেতনতামূলক নানা অনুষ্ঠান মঞ্চস্ত করেন উদ্যোক্তাদের সদস্যরা।
এক জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্যোক্তা অমিত আঢ্য বলেন, রাজহাটিতে জগদ্ধাত্রী পুজোর কুমারী কার্নিভাল এক অন্যরকম অনুষ্ঠান। জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষ্যে প্রত্যেকের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা এসেছেন। এবার কার্নিভাল দেখতে বাইরে থেকেও বহু মানুষ এসেছেন। আমরা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সম্মান জানিয়ে কার্নিভালে অনুষ্ঠান করেছি।