রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলার অন্যতম বিধানসভা আসন কুমারগ্রাম। এই বিধানসভা আসনের একদিকে অসম সীমানা, অন্যদিকে ভুটান সীমান্ত। কুমারগ্রাম ছিল একদা কেএলও আন্দোলনের সুতিকাগার। ভুটান থেকে নেমে আসা রায়ডাক ও সংকোশ নদী দিয়ে ঘেরা এই জনপদের মানুষের চা ও কৃষিই প্রধান অর্থনীতি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ১১ হাজার ১ ভোটে জিতে কুমারগ্রামের বিধায়ক হয়েছিলেন বিজেপির মনোজ ওরাওঁ। গত পাঁচ বছরে কুমারগ্রামের মানুষ পদ্মফুলের বিধায়কের কাছে কি পেলেন আর কি পেলেন না, এখন তার হিসাব নেওয়ার পালা।
বিরোধীরা অবশ্য বলছেন, কুমারগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক গত পাঁচ বছরে নজরে পড়ার মতো কোনো কাজই করতে পারেননি। কুমারগ্রামের গ্রামীণ এলাকায় প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ ছিল বিধায়কের। কিন্তু তিনি কোনো কাজই করতে পারেননি। যদিও বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক মনোজ ওরাওঁয়ের দাবি, বিরোধীরা কে কি বলছে জানি না। কুমারগ্রামের গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা, পানীয় জল, পথবাতি, হাইমাস্ট থেকে শুরু করে স্কুলে পেভার ব্লক বসানো, এলাকায় শ্মশানঘাট তৈরিতে টাকা দিয়েছি। বিধায়কের দাবি, তাঁর আমলেই কামাখ্যাগুড়িতে রেলের আরওবি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ তাঁর বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকাই পেয়েছেন। তবে চলতি অর্থ বছরে পাওয়া অর্থের ২০ লক্ষ টাকা অবশ্য বিদায়ী বিধায়ক এখনও খরচ করতে পারেননি। সিপিএমের জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, এই বিধানসভার গ্রামীণ এলাকায় বিদায়ী বিধায়কের কাজ করার বিরাট সুযোগ ছিল। কিন্তু বিধায়ক সেই কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিধানসভা এলাকায় নজরে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন কাজই তো করতে পারেননি এমএলও। বিধায়ক হিসাবে তিনি পুরো ব্যর্থ।
কামাখ্যাগুড়িতে রেলের আরওবি তৈরি নিয়ে লোকসভায় একাধিকবার সরব হয়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক। তারপর রাজ্য সরকার জমি দিলে আরওবি তৈরির কাজ শুরু হয়। ওই আরওবির নির্মাণ কাজ শুরুর কৃতিত্ব নিয়ে বছরভর বাগযুদ্ধ চলেছিল তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রকাশচিক বরাইকের সঙ্গে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক মনোজ ওরাওঁয়ের। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব নার্জিনারী বলেন, আরওবি নিয়ে বিজেপি বিধায়কের কোনো কৃতিত্ব নেই। আর ওটা তো রেলের কাজ। এই কাজের সঙ্গে বিধায়কের কি সম্পর্ক? বিধায়ক হিসাবে তিনি তো পুরোপুরি ব্যর্থ। গত এক বছরে রাজ্য সরকার কুমারগ্রামে ২০০ কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ করেছে। উন্নয়নের কাজে ব্যর্থ হয়ে বিধায়ক শুধু আরওবি নিয়ে বাগাড়ম্বর করে গিয়েছেন দিনের পর দিন।
বিধায়ক মনোজবাবু অবশ্য বলেন, গত পাঁচ বছরে আমার বিধায়ক তহবিলের অর্থে কুমারগ্রামে প্রচুর উন্নয়নের কাজ করেছি। পথবাতি, হাইমাস্ট, পানীয় জল, রাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে স্কুল ক্যাম্পাসে পেভার ব্লক বসানোর কাজ হয়েছে। স্কুলের প্রাচীর করেছি। শ্মশান তৈরির জন্য টাকা দিয়েছি। বিরোধীরা কালো চশমা পরে আছে তাই চোখে উন্নয়ন দেখে না।