নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলটি: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কুলটিতে জয় পায় বিজেপি। তৃণমূলের উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে ৭০০-র কম ভোটে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন বরাকরের চিকিৎসক হিসাবে পরিচিত সংঘের পোস্টার বয় অজয় পোদ্দার। কুলটিতে প্রথমবারের জন্য পদ্মফোটে তাঁর হাত ধরেই। কুলটির উন্নয়নের অন্যতম কারিগর উজ্জ্বলকে হারিয়ে পাঁচ বছর ধরে কী পেল, এলাকায় তা নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই। বিজেপি বিধায়ককে এলাকাবাসী দেখেনি। তাঁর কোনো উন্নয়ন নজরে আসেনি। এবার ভোটে কুলটিতে এই ইস্যুই বড়ো আকারে সামনে আসছে। কিছুটা চাপে পড়েই ভোটের কয়েকদিন আগে নিজের পাঁচ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছেন কুলটির বিজেপির বিধায়ক অজয় পোদ্দার। রেল, ইসিএল, বিসিসিএলের কাজের হিসাবে নিজের বিধায়ক উন্নয়নের খতিয়ানে যুক্ত করেও সমৃদ্ধ হল না উন্নয়নপত্র। কী করেছেন বিধায়ক তহবিলের টাকায়? অজয়বাবুর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ন’টি স্কুলে ২৬টি কম্পিউটার দিয়েছেন তিনি। ৯০০টি সোলার স্ট্রিট লাইট বসিয়েছেন। বাল্টোরিয়া গণেশ পুজো মাঠ, মানবেড়িয়া শিব মন্দির সহ আটটি স্থানে হাইমাস্ট বাতিস্তম্ভ বসিয়েছেন। কুলটি ও নিয়ামতপুরের দু’টি সংস্থাকে দু’টি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছেন। সূর্যনগর ও মানবেড়িয়ায় শ্মশান ঘাটের শেড নির্মাণ, বরাকরে কমিউনিটি শেড নির্মাণ। তৃণমূলের দাবি, বিধায়ক তহবিল থেকে উন্নয়নের হিসাব বলতে এই টুকুই। পথবাতি আর স্কুলে কম্পিউটার দিয়েই বিধায়কের কর্তব্য পালন করেছেন। এই উন্নয়ন পরিসংখ্যানে মানুষের মন ভিজবে না। তাই নিজের এলাকায় কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজগুলিকেও নিজেদের উন্নয়ন খতিয়ানে রেখেছেন বিজেপির বিধায়ক। তিনি দাবি করেছেন, ইসিএল হারিনালে শ্মশান ঘাট নির্মাণ করেছে। আলডি ও বেজডিতে রাস্তা নির্মাণ করেছে। সমগ্রী এলাকায় ১০০টি সৌর বিদ্যুৎ চালিত পথবাতি দিয়েছে ইসিএল। গণেশ পুজো মাঠ থেকে বাল্টোরিয়া কোলিয়ারি অফিস পর্যন্ত ব্ল্যাক টপ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কুলটি স্টেশনের প্লাটফর্ম সংস্কার, বরাকর স্টেশন লিফট বসানোর কৃতিত্বও নিজের দাবি করেছেন বিজেপির বিধায়ক। তাঁর উন্নয়ন খতিয়ানে কয়েকটি ট্রেনের নতুন করে স্টপেজ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করতে হয়েছে বিধায়ককে। সীতারামপুর স্টেশনের উন্নয়নও তাঁর অনুরোধেই হয়েছে বলে বিধায়ক জানিয়েছেন। পাশাপাশি বরাকরে রেলওয়ে সাবওয়ের ও রাস্তার সংস্কারের হওয়ার কথাও বারবার উল্লেখ করেছেন।



