নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির নিরিখে এবার ‘হ্যাটট্রিক’ করল এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পক্ষীনিবাস কুলিক। রবিবার রায়গঞ্জ বনবিভাগ থেকে সরকারি ভাবে পাখি সুমারির রিপোর্ট প্রকাশ হতেই এই পরিসংখ্যান উঠে আসে। সরকারি তথ্যে স্পষ্ট হয় ২০২৪ থেকে পরপর তিন বছর ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছে পক্ষী নিবাসে আসা পরিযায়ীদের সংখ্যা। ২০২৩ সালের তুলনায় প্রথম ২০২৪ সালে পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, সেবার পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ১৪১।
পরের বছর ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৬ হাজার ৭১৯। ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ২ হাজার ৮১৪। এবার ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা সার্বিক ভাবে বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৯৫। এতেই হাসি ফুটছে রায়গঞ্জ বনবিভাগের কর্মীদের মুখে। খুশি রায়গঞ্জের পক্ষীপ্রেমীরা।
রায়গঞ্জ বনবিভাগের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, লাগাতার কয়েক বছর ধরে পাখি সুমারিতে পরিযায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা খুব খুশি। কারণ বন দপ্তরের পক্ষে পরিযায়ী পাখিদের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা, পর্যাপ্ত খাদ্যের সংস্থান, আবহাওয়া, নজরদারির জন্য এই সংখ্যা বৃদ্ধি বলে অনুমান। আমরা এবার ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দু’দিন ধরে বনকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পক্ষীপ্রেমী, স্কুল পড়ুয়া সকলকে নিয়ে পাখি গণনা করেছি। আমরা গাছ ও তাতে তৈরী পাখির বাসার পরিসংখ্যান তৈরী করেছি। যা এবার প্রকাশ করা হলো। তাতে যে গাছগুলিতে বেশি পরিমাণে পাখির বাসা তৈরী হয়েছে আগামীতে সেই গাছের চারা রোপনের ব্যাপারে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বন দপ্তর এবার প্রথম পাখি সুমারির পাশাপাশি রায়গঞ্জ বনবিভাগ গাছ ও পাখির বাসার পরিসংখ্যান স্পষ্ট করেছে। তথ্য অনুযায়ী কুলিক পক্ষীনিবাস ও পার্শ্ববর্তী গাছের মধ্যে পিঠালি, জারুল, বাঁশ, বটগাছে বেশি পরিমাণ পাখির বাসা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ৪০৩ টি পিঠালি গাছে ৬ হাজার ৭৮৭ পাখির বাসা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২৯৩ টি জারুল গাছে ৬ হাজার ৩২৪। ৯৯টি বাঁশঝাড়ে ৪ হাজার ৪১৬টি বাসা দেখা গিয়েছে। সেইসঙ্গে ৮ টি বট গাছে ৮৩৬ বাসা নজরে এসেছে। এছাড়া অর্জুন, হিজল, জিগনি, ছাতিম, কদম সহ বিভিন্ন গাছে পরিযায়ী পাখিরা বাসা বেঁধেছে।
এবার গণনায় সংখ্যায় বেড়েছে গ্লসি আইবিস। এই প্রজাতির পাখির সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিলো ৬ হাজার ৯৬৪। এছাড়াও ওপেন বিল স্টর্ক, নাইট হেরোন, ইগ্রেটের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বেড়েছে।
এবার সর্বোচ্চ ৭১ হাজার ১২০টি ওপেন বিল স্টর্ক প্রজাতির পাখির হদিশ মিলেছে। নাইট হেরোন প্রজাতির পাখি ছিল ৫ হাজার ১২৯টি । পক্ষীনিবাস ও আশপাশের গাছে ইগ্রেটের দেখা পাওয়া গিয়েছে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫২৩। তবে এবার সংখ্যায় সামান্য কমেছে কর্মরান্ট প্রজাতির পাখির। এবার এটির সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিলো ৮ হাজার ৪৬৬ টি।