বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পরও মণিপুরে অশান্তির রেশ কাটছে না। ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কাংপোকপি জেলা। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এক কুকি আন্দোলনকারীর। এর পরেই রাজ্যের বেশ কিছু অংশে বিচ্ছিন্নভাবে বনধের ডাক দিয়েছে কুকি-জো কাউন্সিল।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত রাস্তা সচল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেইমতো জনজীবন স্বাভাবিক করতে শনিবার থেকে বাস পরিষেবা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতেই দেখা দিল অশান্তি। রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কুকি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। বাস আটকে পাথরও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও দাবি পুলিসের। এর জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। জানা গিয়েছে, কুকি মহিলারা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয়। এর ফলে জখম হন কমপক্ষে ১৬ জন। সংঘর্ষে ২৭ জন নিরাপত্তা রক্ষীও জখম হয়েছেন বলে পুলিস সূত্রে খবর। তাঁদের দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গত ২ মার্চ দিল্লিতে মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা ও শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। বৈঠকের পর শাহ ৮ মার্চ থেকে মণিপুরে জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সমস্ত রাস্তা সচল করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এই নির্দেশের বিরোধিতা করে কুকি গোষ্ঠী। কুকি গোষ্ঠীগুলি জানিয়েছিল, তাদের দাবিদাওয়া মানা না হলে রাস্তায় যান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। সেই মতো কাংপোকপি জেলার রাস্তায় বাস নামতেই বাধা দেন কুকি মহিলারা। কুকিদের জন্য পৃথক প্রশাসনের দাবিতে তাঁদের এই বিক্ষোভ। গত ২২ মাস ধরে হিংসার আগুনে পুড়ছে মণিপুর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পরও এদিন অবাধে যান চলাচল শুরু করা যায়নি।