সংবাদদাতা, করিমপুর: সীমান্তে প্রায় ৭ কিমি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি চিহ্নিতকরণের কাজ চালু হওয়ায় খুশি হোগলবেড়িয়া সীমান্তের বাসিন্দারা। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া সীমান্ত সড়ক ও কাঁটাতারের বেড়া তৈরির দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকার মানুষ। কাছারিপাড়ার বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৩-৯৪ সালে দুই দেশের সীমানা নির্দেশক র্যাডক্লিফ লাইনের দেড়শো মিটার দূরত্বে ভারতীয় জমিতে বর্ডার রোড নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে পদ্মা নদীর ভাঙনে মধুগাড়ি ও কাছারিপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমি সহ বর্ডার রোড ও সীমান্তের পিলার জলের নীচে চলে যায়। প্রায় দশ কিমি উত্তর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা এগিয়ে আসে দক্ষিণে। বছর সাতেক পরে ২০০৩-০৪ সাল নাগাদ ধীরে ধীরে পদ্মার চর জেগে ওঠে। তলিয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জমি পদ্মা নদীর ওপারে চলে যায়। তখন বাংলাদেশিরা সেই জমি দখল করে নিয়েছিল। এলাকার মানুষের চেষ্টায় বিএসএফ ও প্রশাসনের সাহায্যে ফিরিয়ে নেওয়ার পরে সেই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন ভারতীয় চাষিরা। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া না থাকার কারণে চাষিদের উপর বাংলাদেশিদের অত্যাচার লেগেই থাকে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙনের পর থেকে এই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকার ফলে অনুপ্রবেশ থেকে চোরাকারবারিদের সুবিধা হয়েছে। চাষের জমির উপর দিয়ে রাতের অন্ধকারে পাচারের ফলে ফসলের ক্ষতি হয়। এখন সীমান্তে নতুন করে সীমান্ত সড়ক ও কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হলে অনেক অত্যাচার থেকে মুক্তি মিলবে এবং এলাকার চাষিরা উপকৃত হবেন। তবে সীমান্তের ১৫৩/১১ এস পিলার থেকে ১৫৪/৬ এস পিলার এলাকার প্রায় ৯৭.২৮ একর জমির মালিকরা চাষাবাদ করা নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ এখন বেড়া তৈরি হলে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে এই এলাকার ফসল আমাদের দেশের চাষিরা ঘরে নিয়ে আসতে পারবে কি না, সন্দেহ আছে।
Advertisement
মধুগাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রেখা মণ্ডল বলেন, রাস্তা তৈরির বিষয়টি জানার পরে দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যে, রাস্তাটি যাতে সীমান্তের পিলার লাগোয়া এলাকা দিয়ে হয়। তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমরা তৈরি করছি। তাহলে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরবর্তীকালে সীমান্ত এলাকার চাষিদের চাষাবাদ ও নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। করিমপুর ১ ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুমন কুমার পাল বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতা নিয়ে আগের স্থান দিয়ে সীমান্ত সড়ক ছিল সেই এলাকার রাস্তার জমির কাজ চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ হয়েছে। কোন স্থান দিয়ে সড়ক নির্মাণ হবে সেই বিষয়টি দিন কয়েক আগে বিএসএফকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে আর কোনও সমস্যা নেই। বিএসএফের এক কর্তা জানান, সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।



