সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্বস্থলীর নার্সারিগুলিতে রাতেও চারাগাছ তৈরি হচ্ছে। কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষ ঘটিয়ে ফুলের চারাগাছের বৃদ্ধি ঘটাচ্ছেন নার্সারির মালিকরা। এইভাবে চন্দ্রমল্লিকা সহ নানা ফুলের চারাগাছ তৈরি করে বাজারে জোগান দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার উদ্যান পালন দপ্তরের অফিসার সুদীপ ভকত বলেন, এটা খুব ভালো উপায়। এখন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে, আর রাত বড় হচ্ছে। এমন সময়ে আলো দিয়ে রাতে চন্দ্রমল্লিকা সহ যে কোনও গাছের চারাতেই কৃত্রিম ভাবে সালোকসংশ্লেষ ঘটিয়ে গাছ তৈরি করা, ফুল ধরানো সবই সম্ভব হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী নার্সারি মালিকদের চলতে হয়। আলো নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছেমতো রাতে চন্দ্রমল্লিকা সহ নানা জাতের ফুল, গাছ তৈরি করা হচ্ছে। শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় বেশির ভাগ দিনই সকালে ভালো করে রোদ পড়ে না। আবার বিকেলে সাড়ে চারটে বাজলেই সূর্যের আলো কমে যায়। শীতের দিনে ঠিকঠাক আলো না পাওয়া চন্দ্রমল্লিকা সহ বেশ কিছু গাছের ফুল খুব বেশি বড় হতো না। আর গাছ উচ্চতায় এক হাত লম্বা হতে না হতেই কুঁড়ি এসে যেত। ফুল ধরার আগেই সে গাছ নুইয়েও পড়ত। ছোট ছোট ফুল এলে সেই চারাগাছের দামও পাওয়া যায় না। তাই নার্সারিগুলিতে রাতে বৈদ্যুতিক এলিডি আলো দিয়ে চন্দ্রমল্লিকা সহ নানা জাতের চারাগাছ তৈরি করা হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে পূর্বস্থলীজুড়ে এমন কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পূর্বস্থলীর নার্সারির মালিক শঙ্কর দত্ত বলেন, নির্দিষ্ট উচ্চতায় জোরালো আলো দিয়ে ফুলগাছের চারা তৈরি করা যায়। তবে তারজন্য কোন গাছের কতটা আলো প্রয়োজন আগে সেটা জানতে হবে। আমরা এভাবে শীতের মরশুমে চন্দ্রমল্লিকা সহ নানা বিদেশি গাছের চারা তৈরি করি। আরেক ফুল চাষি জানান, চারা লাগানোর দিন সাতেক পরেই কৃত্রিম আলো দেওয়া শুরু করতে হয়। সাত-আট হাত অন্তর একটি করে এলইডি বাল্ব জমিতে ঝোলাই আমরা। কেউ একটানা কুড়ি দিন, কেউ এক মাস, কেউ বা চল্লিশ দিন আলো জ্বালিয়ে রাখেন চন্দ্রমল্লিকার জমিতে। আলো বন্ধ করার দিন পনেরো বাদে কুঁড়ি আসে। তারপর ফুল ফুটতে আরও দু’-তিন সপ্তাহ সময় লাগে। পূর্বস্থলী নার্সারি শিল্পে জেলায় বড় জায়গা করে নিয়েছে। আর নার্সারি শিল্পের সঙ্গে এলাকার প্রচুর মানুষ নির্ভরশীল। চারাগাছ তৈরি থেকে শুরু করে তার পরিচর্যা করা, সেই চারাগাছ নিয়ে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা ইত্যাদি কাজে বহু মানুষ যুক্ত। এসব করেই অনেকের সংসার চলে।



