Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুটির শিল্পের প্রসারে বাড়ছে কর্মসংস্থান, ঘরে আসছে বিদেশি মুদ্রাও, চাঙ্গা শিল্পীরা

কুটির শিল্পের প্রসারে বাড়ছে কর্মসংস্থান, ঘরে আসছে বিদেশি মুদ্রাও, চাঙ্গা শিল্পীরা
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া, আউশগ্রাম, পূর্বস্থলীজুড়ে রয়েছে অসংখ্য কুটির শিল্প। বাংলার এসব প্রাচীন হস্তশিল্পকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছেন গ্রামীণ শিল্পীরা। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই গ্রামীণ শিল্পের প্রসার ঘটেছে। তাঁদের কাজ পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে। ঘরে ঢুকছে বৈদেশিক মুদ্রা। এই সাফল্যের ভাগীদার মহিলারাও। শিল্পীদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই বাংলার কুটির শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছে। শিল্পের প্রসারে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। 
Advertisement
আউশগ্রামের ডোকরা শিল্পের জগৎজোড়া নাম। ডোকরা সারা বছর পাড়ি দেয় ডেনমার্ক, লন্ডন, কিরঘিজস্তানে। কয়েক বছর আগেও ডোকরার প্রসার সেভাবে ঘটেনি। ইদানীং তাই নিয়ে অনেকের আগ্রহ বেড়েছে। প্রায়দিনই আউশগ্রামের দারিয়াপুরে ডোকরা কেনাকাটা করতে আসছেন বিদেশিরা। শিল্পী শুভ কর্মকার জানিয়েছেন, বাম আমলে ডোকরার কাজ বিক্রি হতো। কিন্তু এতটা প্রসার ঘটেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার ইকোপার্কে হস্তশিল্পের আয়োজন করেন। সেখানে আমাদের মতো শিল্পীদের সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। যারজন্য আমরা এখন বিদেশ ঘুরতে পারছি। বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারছি। নতুন প্রজন্মও কাজ শিখতে আগ্রহী হচ্ছে। বিদেশিরাও এখন আমাদের কাজ প্রচুর কেনেন। 
পূর্বস্থলীর নতুনগ্রাম, কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের কাষ্ঠশিল্পে আজ বিদেশের মাটিতেও সমাদৃত। দুঃস্থ শিল্পীদের হাতে তৈরি কাঠের নানা পুতুল, ঘর সাজানোর আসবাব আজ পাড়ি দিচ্ছে সুদূর স্পেন, আমেরিকা, হল্যান্ড, কানাডাতেও। নতুন প্রজন্ম আগ্রহী হয়ে নতুন নতুন ভাবনায় কাষ্ঠে শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলছেন। শিল্পী অক্ষয় ভাস্কর বলেন, প্রায় পাঁচশো বছর আগে থেকে আমাদের নতুনগ্রামে শিল্পটা শুরু হয়েছিল। তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন করে শিল্পটা শুরু হল। লুপ্ত হতে বসা বাপ-ঠাকুরদার আমলের শিল্প এখন আমাদের হাত ধরেই বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। আমরাও স্কুল কলেজ থেকে বেরিয়ে এসে হস্তশিল্পটাকেই আঁকড়ে ধরেছি। বছরে প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা শিল্পীদের ঘরে ঢোকে। তবে মমতার আমলে আমাদের শিল্পীদের সারা বিশ্ব নতুন করে চিনেছে। বৈদেশিক বাজারটাতে আমাদের শিল্পকর্ম দেখানোর সুযোগ ঘটেছে। নতুন প্রজন্ম আরও এগিয়ে আসুক গতানুগতিক চাকরি ছেড়ে। এখানেও ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত রয়েছে। 
আউশগ্রামের বনবগ্রামের কাঁথাস্টিচও এখন বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। শিল্পীরাও বিদেশ যাচ্ছেন। শুধু পুরুষরা নয়, ঘরের মহিলারাও এসব কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কেউ কাঠের পুতুল তৈরি করছেন। কেউ ডোকরার গয়না তৈরি করছেন। অতএব আজকের বাংলার কুটির শিল্পের অগ্রগতির ভাগীদার বাংলার  মহিলারাও।
এছাড়া রয়েছে হাতে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, মৃৎশিল্প, বাঁশের তৈরি পণ্য ইত্যাদি। কুটির শিল্পের এই রূপান্তরের মাধ্যমে, শিল্পীদের অর্থনৈতিক অবস্থা সামান্য হলেও উন্নতির দিকে এগিয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ