Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোতুলপুর থেকে ট্রাকের মালিক, চালক সহ ধৃত ৩

কোতুলপুর থেকে ট্রাকের মালিক, চালক সহ ধৃত ৩
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ভুয়া নম্বর প্লেট লাগিয়ে ধান ভর্তি ট্রাক ‘গায়েব’ করার চক্রের সন্ধান পেল বাঁকুড়া পুলিস। গত শুক্রবার বিহার থেকে বর্ধমানের সেহেরাবাজার যাওয়ার সময় এক ব্যবসায়ীকে বোকা বানিয়ে মাঝ রাস্তায় বেলিয়াতোড়া থেকে আস্ত একটি ধানের ট্রাক নিয়ে চালক-খালাসি উধাও হয়ে যায়। বিহারের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে বেলিয়াতোড় থানার পুলিস কোতুলপুরের বাসিন্দা তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। সেইসঙ্গে পুলিস ধান সমেত ট্রাকটি উদ্ধার করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম দীপেন গোস্বামী, টোটোন বানসারি ও অচিন্ত্য ঘোষ। দীপেন ও টোটোন ট্রাকের চালক ও খালাসি। অচিন্ত্য ওই ট্রাকটির মালিক। 
Advertisement
মঙ্গলবার সকালে বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (সদর) সিদ্ধার্থ দোরজে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ওই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা জানতে ধৃতদের আমরা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। অভিযোগ দায়ের হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার ও ট্রাক উদ্ধার করা গিয়েছে। 
পুলিস এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে বিহারের বাঁকা এলাকার বাসিন্দা রামবিলাস সাউ দু’টি ট্রাকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ধান বোঝাই করেন। রামবিলাসবাবু বাঁকা এলাকার বড় ধান ব্যবসায়ী। তিনি ধান বহনের জন্য ট্রান্সপোর্ট সংস্থার মাধ্যমে অচিন্ত্যর ট্রাকটি ভাড়া করেন। ওই ট্রাকে প্রায় ৩০ টন ধান ছিল। আগাম ছক কষে অচিন্ত্যরা গাড়ির নম্বর প্লেট বদলে দেয়। ফলে চালানে ট্রাকটির ভুয়ো নম্বর লেখা ছিল। রামবিলাসকে ট্রাকে চাপিয়ে শুক্রবার চালক দীপেন ও খালাসি টোটোন বর্ধমানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ওইদিন রাতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ট্রাকটির বর্ধমানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্গাপুরের কাছে ওভারলোড ও পুলিসের হয়রানির অজুহাত দেখিয়ে চালক ট্রাকটিকে নিয়ে বড়জোড়া হয়ে বেলিয়াতোড়ে নিয়ে যায়। সোনামুখী হয়ে ঘুরপথে সেহেরাবাজার পৌঁছানোর ব্যাপারে সে ওই ধান ব্যবসায়ীকে রাজি করায়। বেলিয়াতোড় থানা এলাকার একটি লাইন হোটেলে খাবার খাওয়ার জন্য চালক ট্রাকটিকে দাঁড় করায়। পরে রামবিলাসের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে সে ও খালাসি ট্রাক নিয়ে উধাও হয়ে যায়। ধান ব্যবসায়ী দ্রুত বিষয়টি বেলিয়াতোড় থানায় জানান। 
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস দ্রুত তদন্তে নামে। চালানে থাকা নম্বরটি ভুয়ো বলে পুলিস তখন জানতে পারে। তবে রামবিলাসের ফোন থেকে পুলিস ট্রাকের মালিক ও চালকের মোবাইল নম্বর পায়। তার টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করে কোতুলপুর থানা এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার ও ধান সমেত ট্রাকটি আটক করা হয়। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, আমরা তল্লাশি চালানোর সময়ে ট্রাকের মধ্যে থেকে আরও দু’টি ভুয়ো নম্বর প্লেট পেয়েছি। ফলে অচিন্ত্য, দীপেনরা হয় এর আগেও একই ধরনের অপরাধ করেছে, অথবা পরে ফের তা করার তাদের পরিকল্পনা ছিল। এমনকী অপরাধে ব্যবহৃত ট্রাকটিও চোরাই কিনা তা জানা প্রয়োজন। আটক ট্রাকের চেসিস নম্বর পরীক্ষার জন্য পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। ট্রাকে থাকা প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ধান বর্তমানে বেলিয়াতোড় থানায় রাখা আছে।    
সম্পর্কিত সংবাদ