Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথিতে লোটোর দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন এলাকাবাসী

কাঁথিতে লোটোর দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন এলাকাবাসী
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: কাঁথিতে পুলিসের মদতে চলা লোটোর দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন বাসিন্দারা। শহরে ও গ্রামে এক ডজনের বেশি অনলাইন লোটো কাউন্টার চলছে। অভিযোগ জানালেও পদক্ষেপ করেনি পুলিস। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে এবং পুলিসের মদতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা লুট হচ্ছে। সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভাগ্য বদলের নেশায় সারাদিনের রোজগারের টাকা বাজি ধরে দিনের শেষে ফাঁকা হাতে বাড়ি ফিরছে তারা। রাতারাতি বড়লোক হওয়া স্বপ্নে জমি, বাড়ি, গাড়ি বন্ধক দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। অবৈধ এই কারবার বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন কাউন্টারের অবস্থান সহ নির্দিষ্ট তথ্য কাঁথি থানার আইসিকে দেওয়ার পরও কাজ না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কপি দেওয়া হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও পুলিস সুপারকেও। হাসপাতাল, স্কুলের আশপাশেও এই অবৈধ কারবার জাঁকিয়ে বসেছে। এইসব কারবারের যুক্ত ব্যক্তিদের থানায় নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ। কাঁ‌থি থানার অন্তর্গত মুকুন্দপুর, মাজনা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা, হীরাকোনিয়া কাঠপুল বাজার, কাঁথি-শৌলা রুটে জগন্নাথপুর, রাউতারা বাসস্টপ, খড়্গপুর বাইপাস সংলগ্ন বাসস্টপ, নেতাজি মার্কেট, রূপশ্রী বাইপাসে অটো স্ট্যান্ড, সাতমাইল বাজার এলাকায় ১২টির বেশি লোটো কাউন্টারে দেদার টাকা লুট চলছে। কাঁথি-রসুলপুর রাস্তায় রূপশ্রী মোড়ে অটো স্ট্যান্ডের কাছে একটি বন্ধ হোটেলের সামনে মোটা পর্দা টাঙয়ে রমরমিয়ে এই ব্যবসা চলছে। কাঁথির বাসিন্দা সোমা দাস, শিখা মণ্ডল, আরতি মণ্ডল, প্রিয়াঙ্কা কুইল্যাদের অভিযোগ, কাঁথি থানার আইসি প্রদীপকুমার দাঁ-র মদতে এই অবৈধ ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। আগে এমনটা ছিল না। ওইসব অবৈধ কাউন্টারে মাদকের কারবারও চলছে। তাতে ছাত্র-যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। বহু পরিবার ভুক্তভোগী। পুলিসের কাছে অভিযোগ জানানোর পরও ওই অবৈধ কারবারে রাশ টানা হয়নি। তাই কাঁথি থানার উপর ভরসা হারিয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। 
Advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবৈধ লোটোর কারবার বন্ধ করতে পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য আগেই কাঁথির মহকুমা পুলিস অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠি ওই মহকুমার অন্তর্গত প্রতিটি থানায় পাঠানো হয়। ভূপতিনগর, খেজুরি সহ বেশকিছু থানা এলাকায় ওই কারবারে রাশ টানা গেলেও কাঁথিতে তা হয়নি। ভাগ্য বদলের নেশায় মত্ত হয়ে গরিব সাধারণ মানুষজন আর্থিকভাবে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছেন। কেউ কেউ মহাজনের কাছে অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করে এই কারবারে জড়িয়ে নিজেদের সর্বস্বান্ত করে ফেলছেন।এনিয়ে কাঁথি থানার আইসি প্রদীপকুমার দাঁ বলেন, লোটোর বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই অভিযান চালাই। তারমধ্যেও দু’-এক জায়গায় লুকিয়ে চুরিয়ে চলছে। আমরা আগামী দিনে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করব।
সম্পর্কিত সংবাদ