সংবাদদাতা, কাঁথি: দূষণ ও দুর্গন্ধ ছড়াবে। এই অভিযোগে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ার কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কাঁথির সমুদ্রতীরবর্তী শৌলা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকাবাসীর অবস্থান-বিক্ষোভ চলার কারণে উত্তেজনা জারি ছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিস-প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এলাকাবাসী জানান, এই ধরনের প্রকল্প যেখানে হয়েছে, সেইরকম একটি প্রকল্প তাঁদের সরেজমিনে দেখাতে হবে। তারপরই তাঁরা সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। এরপরই বিক্ষোভ ওঠে।
Advertisement
শৌলা সংলগ্ন শেরপুর মৌজায় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের আর্থিক সহায়তায় এই প্রকল্প গড়ে তুলছে কাঁথি পুরসভা। পুর এলাকার যাবতীয় কঠিন বর্জ্য এই প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হবে। প্রকল্প এলাকায় যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় চারশো মিটার কংক্রিটের অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজের ক্ষেত্রে অস্থায়ী অবরোধ সরানোর জন্য এদিন জেসিবি মেশিন নামানো হয়। সেখানে ছিলেন কাঁথি-১ ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধি ও বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়াররা, কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার লোকজন। জানতে পেরে এলাকার বাসিন্দা কয়েকশো মহিলা-পুরুষ জড়ো হন। তাঁরা জেসিবি মেশিন ফিরিয়ে দেন। দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। জানিয়ে দেন, এখানে প্রকল্প গড়ে উঠলে আবর্জনার পাহাড় জমবে। তা থেকে দুর্গন্ধ ও দূষণ ছড়িয়ে পড়বে। তাই এখানে প্রকল্প কোনওমতেই গড়ে তোলা যাবে না। বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদ জানান সংশ্লিষ্ট নয়াপুট পঞ্চায়েতের প্রধান মমতা গিরি ও উপপ্রধান বিশ্বজিৎ জানা। জুনপুট কোস্টাল সহ অন্যান্য থানার পুলিস সেখানে যায়। যান বিডিও অমিতাভ বিশ্বাস। প্রশাসন ও পুলিসের আধিকারিকরা বাসিন্দাদের বোঝান। কিন্তু বাসিন্দারা নিজেদের দাবিতেই অনড় থাকেন। যদিও এই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দিতে গত শুক্রবার এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাতেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি তাঁরা। দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, এখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হবে। আবর্জনাকে রিসাইক্লিং করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হবে। ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করে আবর্জনা ফেলা হবে, এমনটা নয়। এলাকার মানুষ ভুল বুঝছেন। গত ১৮ জানুয়ারি একই ইস্যুতে বিক্ষোভ হয়েছিল শৌলায়। ফের এদিনের বিক্ষোভ।
জানা গিয়েছে, প্রকল্পটি গড়ার জন্য শৌলায় সাত একর সরকারি জায়গা চিহ্নিত এবং অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি গড়ে তুলতে ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হবে। প্রাথমিকভাবে মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির প্রয়োজন। তারজন্য ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এদিন রাস্তা তৈরি প্রাথমিক কাজ করার জন্যই জেসিবি মেশিন আনা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা অসীম নায়ক, দিলীপ মান্না, শ্যামল বেরা বলেন, এখানে মাছ চাষ হয়। জনবসতি রয়েছে। ব্যাপক দূষণ হবে। মানুষের অসুবিধা হবে, এমন প্রকল্প আমরা চাই না। আর কোথাও এই ধরনের প্রকল্প হয়েছে, যেখানে মানুষের অসুবিধা হয়নি, সেটা আগে আমাদের ঘুরিয়ে ভালো করে দেখানো হোক। তারপর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানাব। বিডিও বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা শীঘ্রই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে অনুরূপ প্রকল্প পরিদর্শনের ব্যবস্থা করব।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তমলুক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নান্টু দাস বলেন, এখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নয়, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হবে। সেটাই আমরা এলাকার মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
জানা গিয়েছে, প্রকল্পটি গড়ার জন্য শৌলায় সাত একর সরকারি জায়গা চিহ্নিত এবং অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি গড়ে তুলতে ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হবে। প্রাথমিকভাবে মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির প্রয়োজন। তারজন্য ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এদিন রাস্তা তৈরি প্রাথমিক কাজ করার জন্যই জেসিবি মেশিন আনা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা অসীম নায়ক, দিলীপ মান্না, শ্যামল বেরা বলেন, এখানে মাছ চাষ হয়। জনবসতি রয়েছে। ব্যাপক দূষণ হবে। মানুষের অসুবিধা হবে, এমন প্রকল্প আমরা চাই না। আর কোথাও এই ধরনের প্রকল্প হয়েছে, যেখানে মানুষের অসুবিধা হয়নি, সেটা আগে আমাদের ঘুরিয়ে ভালো করে দেখানো হোক। তারপর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানাব। বিডিও বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা শীঘ্রই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে অনুরূপ প্রকল্প পরিদর্শনের ব্যবস্থা করব।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তমলুক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নান্টু দাস বলেন, এখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নয়, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হবে। সেটাই আমরা এলাকার মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।



