Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথিতে ডিজের কুফল নিয়ে সচেতনমূলক সভা ঘিরে বিক্ষোভ, প্রধান শিক্ষককে তাড়া

কাঁথিতে ডিজের কুফল নিয়ে সচেতনমূলক সভা ঘিরে বিক্ষোভ, প্রধান শিক্ষককে তাড়া
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাঁথি: মঙ্গলবার কাঁথি-১ ব্লকের চেঁচুড়াপুটে ডিজে সাউন্ডবক্সের কুফল তুলে ধরতে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা ঘিরে এলাকাবাসীদের বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা পড়ে। কাঁথির নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ এই সভার আয়োজন করেছিল। চেঁচুড়াপুট সাইক্লোন শেল্টারে আয়োজিত এই সভা শেষে প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে কটূক্তির পাশাপাশি বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। শেষ পর্যন্ত পুলিস ব্যারিকেড করে প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াইকে বের করে নিয়ে যায়। সেই সময় এলাকাবাসীদের একাংশ প্রধান শিক্ষককে রীতিমতো তাড়া করেন। পুলিসের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। এমনকী ছাত্রছাত্রীরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় তারা যে টোটোতে চেপেছিল, তাতেও হামলা চলে। কিছু সময় পর আক্রান্ত হন সংবাদমাধ্যমের দুই প্রতিনিধিরাও। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, এদিন নয়াপুট হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ চেঁচুড়াপুট সাইক্লোন শেল্টারে ‘শব্দদূষণের কুফল ও মানবজীবনে ডিজের ক্ষতিকারক দিক’ বিষয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। কয়েকমাস আগে চেঁচড়াপুট গ্রামে ডিজে সাউন্ডবক্স বাজানোর কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। এনিয়ে তিনি খোদ স্কুলেই এলাকার কয়েকজনের দ্বারা হুমকির শিকার হন। থানায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীকালে চেঁচড়াপুট গ্রামের এক ছাত্রের সাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই সময়ও তিনি গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যা এলাকাবাসীর কাছে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে এদিন স্কুলের তরফে আয়োজিত সভায় এলাকার বাসিন্দাদের আমন্ত্রণ জানালেও তাঁরা বয়কট করেন। কেউই আসেননি। সভায় বক্তব্য রাখেন বিডিও অমিতাভ বিশ্বাস, কাঁথি-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রসেনজিৎ চন্দ সহ অন্যান্যরা। তবে সংশ্লিষ্ট জুনপুট কোস্টাল থানার ওসি কামার হাসিদ আমন্ত্রিত থাকলেও তিনি আসেননি। 
সভা শেষে এলাকার বাসিন্দারা সাইক্লোন সেন্টারে সামনে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেশ কিছু সময় সাইক্লোন শেল্টারের মধ্যে আটকে থাকেন প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষকরা। পুলিস প্রধান শিক্ষককে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর বাকি শিক্ষকরাও পুলিসি প্রহরায় এলাকা ছাড়েন। তবে তারপর নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। সংবাদমাধ্যমের দুই প্রতিনিধি গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের ভিডিও করেছেন কেন, এই প্রশ্ন তুলে তাঁদের আটকে রেখে মারধর করার পাশাপাশি জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কিছু লোকজন ও পুলিসের হস্তক্ষেপে কোনওরকমে রক্ষা পান তাঁরা। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি কামার হাসিদ বলেন, এই ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ