সংবাদদাতা, কাঁথি: মিথ্যা মামলা করার জন্য অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন বিচারক। বুধবার কাঁথি মহকুমা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত তথা পকসো কোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারক অজয়েন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে এই রায় দিয়েছেন। অভিযোগকারী হলেন নির্যাতিতার মা। আর এনিয়ে পর পর তিন মাসে তিনটি ভিন্ন মামলায় শিশু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। প্রতি ক্ষেত্রেই অভিযোগকারীরাই আদালতের রোষের মুখে পড়ছেন। সব মিলিয়ে মিথ্যা পকসো মামলা বাড়ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। অন্তত কাঁথি আদালতের পরিসংখ্যান সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
Advertisement
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। মন্দারমণি কোস্টাল থানায় নির্যাতিতার মা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে স্থানীয় একটি মুদির দোকানে মালপত্র কিনতে গিয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত তাকে চকোলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তিনমাসের মধ্যে চার্জশিট পেশ করে পুলিস। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালত চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। প্রথম সাক্ষী নির্যাতিতার মা তথা অভিযোগকারী সাক্ষ্যদান পর্বে সম্পূর্ণ অন্য ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, দোকানে জিনিসপত্র কেনার পর টাকা বা দাম দেওয়া নিয়ে তাঁর মেয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ঝামেলা হয়। ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন বিষয়ক একটি শব্দও তিনি তাঁর বাক্যে বলেননি। নির্যাতিতাও একই কথা বলে তার সাক্ষ্যে। নির্যাতিতার পিতা এবং আর এক সাক্ষীরও একই বক্তব্য ছিল। অভিযোগপত্রের সঙ্গে কারও বয়ানের কোনও মিলই নেই। সমস্ত দিক বিচার-বিশ্লেষণ করার পর বিচারপতি এই মিথ্যা মামলা নিয়ে চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর রায়ে ধর্ষণ অর্থাৎ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (২) এবং পকসোর ৬ ধারার অভিযোগ থেকে অভিযুক্তকে মুক্ত করেন। উল্টে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পকসোর ২২ ধারা অনুযায়ী ১৭৭ ও ২১১ ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, মিথ্যা মামলা করার এহেন প্রবণতা সমাজের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অশনি সঙ্কেত এবং সময়ের অপচয়। আইনজীবী আনন্দ দাস বলেন, বিচারপতির এহেন রায়দান মিথ্যা মামলার রাশ টানতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।



