সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: হরিরামপুর ব্লকের বৈরাঠায় ঐতিহ্যবাহী বুড়িকালী মায়ের পুজোকে ঘিরে মেলা শুরু হল। বুধবার শুরু হওয়া এই মেলা চলবে তিনদিন। এই পুজো রাজবংশী সম্প্রদায় বহুকাল ধরে করে আসছেন। ঐতিহ্যবাহী বুড়িকালীর কোনও বিগ্রহ নেই। কাঠের তৈরি মুখোশে চণ্ডীরূপে পূজিত হন বুড়িকালী।
Advertisement
মুখোশ বা মুখা নাচ রাজবংশী সংস্কৃতির অঙ্গ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এই ব্লকে বুড়িকালী সহ বিভিন্ন দেবদেবীর কাঠের তৈরি মুখোশ নিয়ে চলে মুখোশ নাচ। রীতি মেনে এখানে হয় বুড়িকালীর পুজো। উদ্যোক্তারা তিনদিন ধরে চণ্ডীমঙ্গল গানের আসর বসান। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা পুজো দিতে মন্দিরে ভিড় করেন। দিনরাত চলে বুড়িকালীর আরাধনা। যাঁদের মানত থাকে তাঁরা সোনা ও রুপোর অলঙ্কার পরান মাকে। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় হিন্দু ও মুসলিম-উভয় ধর্মের মানুষ মিলিত হন।
এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মনসামঙ্গলের প্রেক্ষাপট। কথিত আছে, চাঁদ সদাগর এই পথ ধরেই বাণিজ্যে গিয়েছিলেন। সেসময় মা বুড়ি চণ্ডী রূপে চাঁদ সওদাগরকে সাহায্য করেছিলেন। সেই অলৌকিক কাহিনী যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস করে আসছে রাজবংশী সমাজ। ভক্তিভরে বুড়িকালীর পুজো করেন তাঁরা। পুজোর দিন বুড়ির কাছে মানত করেন অনেকে। পুজোকে কেন্দ্র করে বসে মেলা।
মনিহারি দোকান থেকে নাগরদোলা,- মনোরঞ্জনের যাবতীয় দোকান বসেছে মেলা চত্বরে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হরিরামপুর থানার বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করেছে। পুজোর উদ্যোক্তা বিপুল সরকার বলেন, বুড়িকালী পুজো শতাব্দী প্রাচীন। সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাসের জায়গা। পুজো উপলক্ষ্যে তিনদিন মেলা চলবে। বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুজো হয় মন্দিরে। ঐতিহ্য মেনে এখনও চণ্ডীমঙ্গল গানের আসর বসে। কাঠের মুখোশে বুড়িকালীর পুজো হয়। সঙ্গে থাকে বিভিন্ন দেবদেবীর মুখোশ।



