Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথির জুনপুটে দুই গ্রামে উদ্ধার প্রেমিক-প্রেমিকার দেহ, চাঞ্চল্য

কাঁথির জুনপুটে দুই গ্রামে উদ্ধার প্রেমিক-প্রেমিকার দেহ, চাঞ্চল্য
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: প্রেমের মর্মান্তিক পরিণতি! কাঁথির জুনপুট কোস্টাল থানার সিলামপুর ও পূর্ব রামচন্দ্রপুর পাশাপাশি দুই গ্রামে দু’টি পৃথক ঘটনায় প্রেমিক ও প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতরা হলেন সুদীপ মণ্ডল(২১) ও সুতপা মান্না(২০)। সুদীপের বাড়ি সিলামপুর ও সুতপা পূর্ব রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দা। সুতপা কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজে বাংলা অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করতেন। সুদীপ সোসিওলজি অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করলেও সম্প্রতি পড়াশোনার পাট চুকিয়ে কাঁথি শহরের ক্যানেলপাড়ে একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে সুদীপকে দড়ির ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। আর শুক্রবার বেলার দিকে সুতপাকে সিলিং ফ্যানে গামছার ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দু’জনকেই তাঁদের বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে জানিয়ে দেন। পুলিস দু’টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। 
Advertisement
পুলিস প্রাথমিকভাবে মনে করছে, সম্পর্কে টানাপোড়েনজনিত কারণে এই ঘটনা। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে সুদীপ আত্মঘাতী হন। আর প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং শোকে আত্মঘাতী হন সুতপা। আর দু’জনের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পর দু’টি পরিবারের লোকজন শোকে বাক্যহারা হয়ে গিয়েছেন। দু’টি গ্রামেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গিয়েছে, সুদীপের বাড়ি থেকে সুতপার বাড়ি দূরত্ব ৫০০মিটার। বছর চারেক ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাড়ির লোকজন থেকে এলাকার বাসিন্দারা সকলে এই সম্পর্কের কথাও জানতেন। গত বুধবার কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন সুতপা। সেখানে কলেজ ছাত্র এক বন্ধুর সঙ্গে ছবি তোলেন তিনি। তারপর সেই ছবি হোয়াটসঅ্যাপে সুদীপের কাছে পাঠান। সেই ছবি দেখার পর সুদীপ ক্ষুব্ধ হন। সুতপার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটিও হয়। মান­-অভিমানের পালা চলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সুতপা সুদীপকে বেশ কয়েকবার ফোনও করেন। কিন্তু সুদীপ রিসিভ করেননি। তারপর রাতের দিকে সুদীপকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, সুদীপের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ভেঙে পড়েছিলেন সুতপা। বাড়ির লোকজন তাঁকে বারংবার বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি সুতপা। শুক্রবার বাড়ির লোকজন যখন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, সেই সময় ফাঁক পেয়ে কোনওভাবে সিলিং ফ্যানে ঝুলে পড়েন সুতপা। ভুল বোঝাবুঝিতেই দু’টি প্রাণ চলে গেল বলে এলাকার বাসিন্দারা বলছেন। সিলামপুরের ভবশঙ্কর মণ্ডলের ছেলে সুদীপ। রামচন্দ্রপুরের সুরঞ্জন মান্নার মেয়ে সুতপা। ভবশঙ্করবাবু বলছেন, ছেলের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করিনি। তারপর এই ঘটনা। আর সুরঞ্জনবাবু মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন। থানার ওসি কামার হাসিদ বলেন, ঘটনার খবর আমাদের কাছে এসেছে। তবে এনিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।  
সম্পর্কিত সংবাদ