Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কঠিন বর্জ্যে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, অতিষ্ঠ মানুষ, কুপার্সের ডাম্পিং গ্রাউন্ড বিশ বাঁও জলে

কঠিন বর্জ্যে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, অতিষ্ঠ মানুষ, কুপার্সের ডাম্পিং গ্রাউন্ড বিশ বাঁও জলে
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দিন,মাস, বছর পেরিয়ে যায়, কিন্তু কুপার্সের ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ যেন এগতেই চায় না। প্রকল্পের কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা এক সময় নভেম্বর ধরা হলেও, এখনও তা বিশ বাঁও জলে। এদিকে, কঠিন বর্জ্যের দাপটে ‘নিখোঁজ’ কুপার্স থেকে নোকাড়ি যাওয়ার রাস্তাটাই। বর্তমান প্রশাসক বোর্ডের কাজে মানুষ তো বটেই, ক্ষুব্ধ শাসক দলেরই একাংশ। 
Advertisement
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে চলে আসা ছিন্নমূল মানুষদের ঠিকানা হয়ে ওঠে কুপার্স। ধীরে ধীরে শেল্টার পরিণত হয় মফস্‌সল জনপদে। এলাকার উন্নয়নের কথা ভেবে প্রথম থেকেই পুর পরিকাঠামো তৈরি হয় এই এলাকায়। যদিও নোটিফায়েড অথরিটি পর্যন্তই মর্যাদা দেওয়া হয় পুর পরিকাঠামোটিকে। এরপর চূর্ণী নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু কুপার্স ক্যাম্প এলাকার সার্বিক উন্নয়ন বাম অথবা ডান, কোনও আমলেই হয়নি। এখনও অনুন্নত সড়ক, নিকাশির সঙ্গে যুঝতে হয় এই উপ শহরটির মানুষকে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা এখানকার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। স্বাধীনতার পর প্রায় আট দশক পার, অথচ এখনও নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড নেই কুপার্স ক্যাম্পের। ফলে বছরের পর বছর ধরে গোটা এলাকার কঠিন বর্জ্য জমা হচ্ছে শহরের রাস্তার ধারে। এভাবেই কঠিন বর্জ্যে আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে কুপার্স থেকে নোকাড়ি যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি। সরেজমিনে খতিয়ে দেখা গিয়েছে, কুপার্স শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় ছোট বড় একাধিক টিলা ক্রমশ মাথা উঁচু করছে রাস্তার দু’পাশ ধরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক এবং দুই নম্বর ওয়ার্ড লাগোয়া নোকাড়ি যাওয়ার মূল রাস্তাটি দিয়ে চলাফেরাই করা যায় না। কঠিন বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। ফলে আশপাশের বাড়িতে থাকা এখন দুঃস্বপ্নের মতোই। প্রবল দুর্গন্ধ ও দূষণে প্রাণান্তকর অবস্থা।
অথচ নির্বাচিত বোর্ড থাকাকালীন, বিএলআরও কর্তৃক কুপার্স নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি একটি জমি ও চিহ্নিত করেছিল ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য। পার্শ্ববর্তী বৈদ্যপুর ২ পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় সাড়ে ১১ বিঘা ওই জমিতেই আগামী দিনে গড়ে ওঠার কথা কুপার্সের আবর্জনা নিষ্কাশন কেন্দ্র। এযাবৎ এখানে পরিকাঠামো গড়ার জন্য প্রথম দফার টেন্ডার পর্যন্ত হয়েছে। বাউন্ডারি ওয়াল এবং বেশ কিছু পরিকাঠামো তৈরির জন্য ৪৫ লক্ষ টাকার সেই টেন্ডার আজ মাস ঘুরে বছর পেরলেও উল্লেখযোগ্য তেমন কাজই হয়নি। এরপর আবার ওই জমিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠার কথা। ফলে আদৌ কী কোনওদিন নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড পাবে কুপার্স? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ, সর্বত্র। প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র কুপার্সের সাধারণ মানুষ নয়, অতিষ্ঠ খোদ শাসকদলের নেতৃত্বও। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা বলেন, কোনও প্রশাসকই কাজ করছেন না। শহরের নিকাশি থেকে রাস্তা, কঠিন বর্জ্য থেকে আলো, সর্বত্র সমস্যা। যদিও বিষয়টি নিয়ে রানাঘাটের মহকুমা শাসক ভরত সিং বলেন, আমরা কঠিন বর্জ্যে ব্যবস্থাপনার কাজ যথাসম্ভব এগচ্ছি। বৈদ্যপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ এগচ্ছে। পাঁচিল দেওয়া চলছে। বিভিন্ন জায়গায় সাফাই অভিযান চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ