Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথি ও এগরায় রাস উৎসবে মেতে স্থানীয়রা, বসেছে মেলা

কাঁথি ও এগরায় রাস উৎসবে মেতে স্থানীয়রা, বসেছে মেলা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথি ও এগরা মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে প্রাচীন রাস উৎসবকে ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেছেন বাসিন্দারা। দেশপ্রাণ ব্লকের বসন্তিয়ার দাস অধিকারী পরিবারের দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন রাস উৎসব যেমন রয়েছে, তেমনি সংশ্লিষ্ট ব্লকেরই মুণ্ডপাড়া, কাঁথি-৩ ব্লকের সিজুয়া এবং নাচিন্দা শীতলা ও চণ্ডীঠাকুরানি মন্দিরের রাস উৎসব, কাঁথি শহরের মনোহরচকের শতবর্ষ প্রাচীন রাস উৎসবও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এগরা মহকুমার পটাশপুরের পঁচেটগড় রাজবাড়ির পাঁচ শতাধিক বছরের প্রাচীন রাস যেমন রয়েছে, তেমনি পটাশপুরেরই জব্দা এলাকার সুবিখ্যাত রা‌স উৎসবও উল্লেখযোগ্য। 
Advertisement
২২২ বছরে পর্দাপণ করল বসন্তিয়ার রাস উৎসব। এখানকার উৎসব কাঁথি মহকুমার সবচেয়ে প্রাচীন। উৎসব উপলক্ষ্যে সাতদিনের মেলা বসে। পালাকীর্তন, ভাগবৎপাঠ, অন্নকূট প্রভৃতি অনুষ্ঠান হয়। উৎসব কমিটির কর্মকর্তা দেবকুমার দাস অধিকারী বলেন, প্রথা অনুযায়ী পাঁচদিন কুলদেবতা গোকুলচন্দ্রদেব অষ্টসখী সহ রাসমঞ্চে অবস্থান করেন। উৎসব উপলক্ষ্যে বহু মানুষকে অন্নভোগ খাওয়ানো হয়। প্রচুর দোকানপাট বসে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ উৎসবে শামিল হন। প্রসঙ্গত, ১৮০২ সালে ওড়িশার ব্রাহ্মণ কৃপানিধি দেব গোস্বামী রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে দেব গোস্বামীরা দাস অধিকারী পদবি গ্রহণ করেন। পারিবারিক গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্রমশ সর্বসাধারণের উৎসবে পরিণত হয়েছে এখানকার রাস। 
নাচিন্দা মন্দির প্রাঙ্গণে শুক্রবার থেকে রাস উৎসব শুরু হচ্ছে। এবার ৪২ বছরে পা দিল উৎসব। আগে গ্রামবাসীরাই উৎসব পরিচালনা করতেন। পরবর্তীকালে মন্দির কমিটি সেই দায়িত্ব নেয়। উৎসবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল সুসজ্জিত আলোকমালা বেষ্টিত ঘূর্ণায়মান মঞ্চ। ঘূর্ণায়মান মঞ্চে অষ্টসখী সহ অবস্থান করেন রাধাকৃষ্ণ। সেই ঘূর্ণায়মান মঞ্চ দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। মন্দিরের ম্যানেজিং সেবায়েত কমিটির সভাপতি প্রাক্তন বিধায়ক অনিলকুমার মান্না বলেন, সাতদিনের উৎসবে বিভিন্ন দিনে থাকবে পালাকীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রানুষ্ঠান ও বিচিত্রানুষ্ঠান। আলোকমালায় সেজেছে মন্দিরও। ২০ নভেম্বর অন্নপ্রসাদ বিতরণ।  
মুণ্ডপাড়ার রাস উৎসব এবার ৪৭তম বর্ষে পা দিল। এখানে দু’সপ্তাহ ধরে মেলা চলে। গ্রামে পরিতোষ বেরা নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি যুবক বয়সে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। বহু বছর পর সন্ন্যাসী হয়ে পদ্মনাভ দাস ব্রহ্মচারী নাম নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পদ্মনাভ গাছতলায় কুটির তৈরি করে রাধাকৃষ্ণকে অধিষ্ঠান করে পুজো শুরু করেন। সেই বছর থেকে রাস উৎসবের সূচনা হয়। পদ্মনাভর হাত ধরে শুরু হওয়া সেই উৎসব এখনও চলছে। উৎসব কমিটির সম্পাদক মানস বেরা বলেন, নানা অনুষ্ঠান ও সমাজসেবামূলক কর্মসূচি থাকে। 
কাঁথির মনোহরচক এলাকায় সর্বজনীন রাস এবার ১০১ বছরে পা দিল। রাস উৎসব উপলক্ষ্যে ছ’দিন ধরে চলে মেলা। যাত্রা সহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। পটাশপুরের জব্দায় ৮৩তম রাস উৎসব উপলক্ষ্যে ১০ দিনের মেলা শুরু হয়েছে। বুধবার রাতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঁকুড়ার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সম্পাদক স্বামী কৃত্তিবাসানন্দজি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক, পটাশপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বসেছে প্রচুর দোকানপাট সহ হরেকরকমের আনন্দোপকরণের পসরা।   
সম্পর্কিত সংবাদ