Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেতুগ্রামের পাণ্ডুগ্রামে জগদ্ধাত্রী পুজোয় জমজমাট কবিগানের আসর

কেতুগ্রামের পাণ্ডুগ্রামে জগদ্ধাত্রী পুজোয় জমজমাট কবিগানের আসর
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের পাণ্ডুগ্রামে এখনও কবিগানের লড়াই দেখতে ভিড় জমে। জগদ্ধাত্রী পুজোয় কবিয়ালদের আসর জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিগ বাজেটের নানা পুজোমণ্ডপে আলোর রোশনা‌ই দেখা গিয়েছে। সেইসঙ্গে কবিগান মোবাইলবন্দি করতে ভিড় জমাচ্ছেন যুব প্রজন্মও। 
Advertisement
কেতুগ্রাম-১ ব্লকের পাণ্ডুগ্রাম বহু কবিয়ালের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২০-২২টি জগদ্ধাত্রী পুজো হচ্ছে গ্রামে। তারমধ্যে অনেক বারোয়ারি পুজোও হচ্ছে। সেখানে অনেক কবিগান শিল্পী রয়েছেন। শোনা যায়, আগে পাণ্ডুগ্রামে কয়েকটি মাত্র পারিবারিক জগদ্ধাত্রী পুজো হতো। সেই পুজোয় কবিগানের আসর বসত। কিন্তু সেখানে গ্রামের সব শিল্পী কবিগানের সুযোগ পেতেন না। তাই তখন থেকেই বারোয়ারি পুজো শুরু হয়। এখন সব পাড়াতেই আলাদা আলাদা পুজো হচ্ছে। সব পুজোতেই কবিগানের আসর বসছে। গ্রামের সব শিল্পী কবিগানের সুযোগ পাচ্ছেন। সেই থেকে আজও পাণ্ডুগ্রামে জগদ্ধাত্রী পুজোয় মেতে উঠেছেন গ্রামের বাসিন্দারা। নবমীর দিন একদিনের পুজো হয়। তবে পুজো ঘিরে তিনদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যার মধ্যে কবিগানের আসরই মূল অনুষ্ঠান। এমনকী জগদ্ধাত্রীকে নিয়ে মণ্ডপগুলিতে পাঁচালির আসরও বসে। পাণ্ডুগ্রামের বকুলতলা, মাজিপাড়া, ধর্মরাজতলা, নিমতলা, মাঝেরপাড়া, পূর্বপাড়া সব পাড়াতেই জগদ্ধাত্রী পুজোয় জমজমাট আয়োজন হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা বিপত্তারণ ভাণ্ডারী, অনুপ মণ্ডল বলেন, কর্মসূত্রে বাইরে থাকা গ্রামের বাসিন্দারা জগদ্ধাত্রী পুজোয় বাড়ি চলে আসেন। পুজোয় সব বাড়িতেই আত্মীয়স্বজন ভিড় করেছেন। আশপাশের গ্রামগুলি থেকেও আমাদের গ্রামে কবিগান শুনতে আসেন। এখনও মানুষ কবিগান শোনার জন্য গ্রামে ভিড় জমান। সব শিল্পীর কবিগানের আসরে গান গাওয়ার জন্যই গ্রামে বারোয়ারি পুজোর প্রাধ্যান্য পায়। 
এক সময় গ্রামবাংলার বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল কবিগান। এই গানের আসরে দু’টি দল থাকে। প্রতিটি দলে থাকেন একজন করে প্রধান কবিয়াল। অন্যদের দোহার বলে। পাল্টা যুক্তি-তর্ক আর গানে গানে দুই কবিয়ালের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে কবিগান শুরু হয়। বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় হারমোনিয়াম, ঢোল, বাঁশি, কাঁসা ও বেহালা। যাঁরা বাদ্যযন্ত্র বাজান তাঁদের মধ্যে ঢুলিই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বর্তমান যুগে কবিগান প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা সুন্দরগোপাল চট্টোপাধ্যায়, সুজিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, পাণ্ডুগ্রামে বরাবরই কবিগানের আসর প্রাধ্যান্য পায়। কবিয়ালদের যুক্তিতর্কের আসরে নতুন প্রজন্মও ভিড় করে। গ্রামে আগে দিলীপ চট্টোপাধ্যায় বিখ্যাত কবিয়াল ছিলেন। এখন তাঁর ছেলে প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ও নামী কবিয়াল। প্রভাতবাবু সেই ধারা এখনও বজায় রাখেন।
সম্পর্কিত সংবাদ