সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের চেঁচুড়িতে তৃণমূল বুথ সভাপতি মিন্টু শেখকে খুনের অভিযোগে দিল্লি থেকে দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের নাম মুর্শেদ শেখ ও আশরফ শেখ। দু’জনের বাড়ি চেঁচুড়ি গ্রামেই। সম্পর্কে তারা দুই ভাই। তৃণমূল নেতাকে খুনের পরই তারা দিল্লিতে গা ঢাকা দিয়েছিল। সেখানে তারা রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। ঘটনার প্রায় ন’মাস পর দিল্লি পুলিসের সাহায্যে তাদের গ্রেপ্তার করে কেতুগ্রাম থানার পুলিস। তাদের বাবা রহম শেখও এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল। যদিও রহম শেখ কয়েকদিন আগেই মারা যায়। শনিবার ধৃত দুই ভাইকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের তিন দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১২ মে রাতে দলীয় কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তৃণমূলের চেঁচুড়ি গ্রামের ২ নম্বর বুথের সভাপতি মিন্টু শেখ। বাইকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কর্মী মিশির শেখ। রাস্তায় কয়েকজন তাঁদের বাইক আটকায়। তারপরেই দুষ্কৃতীরা মিন্টু সাহেবের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারে। তারপরে বোমা ছুঁড়ে পালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মিন্টু সাহেবের। আর মিশির শেখ জখম অবস্থায় ওখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন। মৃত নেতার স্ত্রী ১০ জনের নামে কেতুগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বেশিরভাগ আগেই ধরা পড়েছে। ৯০ দিনের মাথায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে আদালতে। এফআইআরে থাকা ১০ জন ছাড়াও তদন্ত করে আরও ছ’জনের নামে চার্জশিট জমা দেয় পুলিস। ধৃত দুই ভাইও ওই নেতা খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। খুনের পরের দিন ভোট দিয়েই তারা এলাকা ছাড়ে। তারা দিল্লির মালভিয়া নগরে আত্মগোপন করে ছিল। একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে তারা রাজমিস্ত্রির কাজও জুটিয়ে নেয়। কয়েকদিন আগে তাদের বাবা মারা যায়। কিন্তু, পুলিসের ভয়ে বাড়িতে আসেনি। কেতুগ্রাম থানার পুলিস গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।



