Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেতুগ্রামে সালিশি সভায় বেধড়ক মার বধূকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা

কেতুগ্রামে সালিশি সভায় বেধড়ক মার বধূকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া : পঞ্চায়েত প্রধানের উপস্থিতিতে সালিশি সভায় এক বধূকে মারধরের অভিযোগ উঠল। রেহাই পায়নি তাঁর ছোট ছেলেও। ঘটনাস্থল কেতুগ্রামের বেড়ুগ্রাম। পঞ্চয়েত অফিসেই বসানো হয়েছিল সালিশি সভা। ঘটনাটির জল গড়ায় থানা পর্যন্ত। নিগৃহীত বধূ সেখানেও সুরাহা পাননি। উল্টে তাঁর বয়ান বদল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি সামনে আসতেই মঙ্গলবার দিনভর তোলপাড় ছিল গোটা কেতুগ্রাম। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেতুগ্রাম-১ ব্লকের বেড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতের মোড়গ্রামে বাসস্ট্যাণ্ডে পূর্তদপ্তরের জায়গায় দু’ কামরার একটি দোকান ঘর রয়েছে ওই বধূর স্বামীর। স্থানীয় এক যুবককে দোকানঘরটি ভাড়া দিয়েছিলেন দিয়েছিলেন তিনি। কিছুদিন ধরে দোকানঘরটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বধূর স্বামী ওই যুবককে তাগাদা দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই যুবক দোকানঘর ছাড়ছিলেন না৷ ভাড়াও দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে বধূর স্বামীর সঙ্গে যুবক ও তাঁর নিত্য ঝামেলা চলছিল। বিষয়টি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মহম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে বকুলকে জানিয়েছিলেন আক্রান্ত বধূর স্বামী। সোমবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ উভয়পক্ষকে ডাকা হয় পঞ্চায়েত অফিসে। স্বামীর সঙ্গে  গিয়েছিলেন ওই বধূ। অভিযোগ, আলোচনা শুরু হওয়ার কিছু পরেই পঞ্চায়েত প্রধানের সামনেই বধূকে বেধড়ক মারধর করা হয়।  বাদ পড়েনি ছেলেও। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বধূ  বলেন, ‘পঞ্চায়েত অফিসে  কথা বলতে বলতেই আচমকা ফখরুদ্দিন সাহেব আমার ছোটো ছেলের গলা টিপে ধরেন। আমি ছেলেকে বাঁচাতে  গেলে আমাকেও মারধর শুরু করে। আমার শ্লীলতাহানিও করা হয়।  স্বামী ছুটে এসে ওঁর হাতেপায়ে ধরে আমাদের বাঁচান। কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে বাড়ি যাই। এখনও আমাদের হুমকি দিচ্ছে। রাস্তায় বের হতে পারছি না।’ বধূ আরও বলেন, ‘কেতুগ্রাম থানার পুলিসের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। আমি যা যা বলেছি, পরে দেখছি আমার বয়ান বদল করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতে প্রধানের সামনেই আমাকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।’ যদিও পুলিসের বক্তব্য, মহিলার সই করা অভিযোগপত্রে পঞ্চায়েত অফিসে সালিশি সভা বা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে মারধরের কোনও কথা লেখা নেই।   
এদিকে, পঞ্চায়েতে সালিশি সভা যে ডাকা হয়েছিল, তা মেনে নিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান মীর মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত অফিসে দু’পক্ষকে ডাকা হয়েছিল মীমাংসা করার জন্য। ঠিক হয়েছিল মহিলার দোকান ঘর ছেড়ে দেওয়ার। পাশাপাশি মহিলাকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলেও  ঠিক হয়। তারপর সবাই বাড়ি চলে যায়। মারধরের ঘটনা আমি কিছু দেখিনি। সে সময় আমি ছিলাম না৷ তাই বলতে পারব না৷’ ঘটনায় যিনি প্রধান অভিযুক্ত সেই ফকরুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সবাই  আমাদের কাছে নানান সমস্যা নিয়ে আসেন। আমরা তা মীমাংসা করে দিই। যাঁরা মানতে পারেন না তাঁদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিই। কোনওদিন কারও গায়ে হাত দিইনি। আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে বদনাম করার চক্রান্ত করা হচ্ছে৷’  পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, ‘পঞ্চায়েতে এভাবে সালিশি সভা ডাকা যায় না। তবে কেতুগ্রামে ঠিক কি ঘটেছে তা আমি জানি না৷ খোঁজ নিচ্ছি।’  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ