সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামে একাধিক হনুমানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলের উপপ্রধানের দাদার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করল বনদপ্তর। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই উপপ্রধানের দাদা তাঁর জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেছিলেন। সেখান থেকেই বিষক্রিয়া হতে পারে বলে অনুমান বনদপ্তরের আধিকারিকদের।
Advertisement
কাটোয়া মহকুমা বনদপ্তরের রেঞ্জার শিবপ্রসাদ সিনহা বলেন, আমরা হনুমানের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সাগর দাস নামে একজনের বিরুদ্ধে কেতুগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। ওই ব্যক্তি তাঁর জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেছিলে। সেখান থেকেই কিছু ঘটতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পেলে কিছু জানা যাবে না। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখছি। প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিকেলে কেতুগ্রামের শাঁখাই এলাকায় তিনটি হনুমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে বনদপ্তর। পরের দিন রবিবার সকালে আরও পাঁচটি পূর্ণবয়ষ্ক হনুমানের দেহ উদ্ধার হয়। পরে আরও দু’টি হনুমানের মৃত্যু হলেও বনদপ্তর সেই দেহ উদ্ধার করতে পারেনি। দেহগুলি বর্ধমানে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের গোবিন্দপুর পঞ্চায়েতের বাটন দাসপাড়া এলাকাতেও বেশ কয়েকদিন ধরে একাধিক হনুমানের দেহ উদ্ধার করেছে বনদপ্তর। সব জায়গাতেই স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মৃত হনুমানগুলির মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হচ্ছিল। তাঁরা সন্দেহ করছেন, বেশকিছু কৃষক ফসল বাঁচানোর জন্য জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছে। হনুমানগুলি সেই ফসল খাওয়ায় বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হচ্ছে। এদিন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় ফোনে বলেন, আমি ঘটনার কথা শুনেছি। কেউ দোষী হলে তার কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। যদিও অভিযুক্ত সাগর দাস বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমার জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেছি ফসলের রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে। আমার জমিতেই যে হনুমানগুলি খেয়েছে তার কী প্রমাণ আছে। কেতুগ্রামের সীতাহাটি অঞ্চলের উপপ্রধান প্রবীর দাসও একই কথা বলছেন।



