নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পান আড়তদারের প্রাসাদোপম তিনতলা পাকাবাড়ি। তা সত্ত্বেও আবাস যোজনায় নাম ছিল তমলুকের গণপতিনগর গ্রামের ওই পান ব্যবসায়ীর। সুপার চেকিংয়ে আবাস উপভোক্তার বাড়ি দেখে চমকে যান জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী ও পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তমলুকের বিডিওকে উপভোক্তা তালিকা থেকে ওই ব্যবসায়ীর নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। ওই পান আড়তদারের নাম কীভাবে আবাস উপভোক্তা তালিকায় উঠল, তা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে প্রশাসনের অন্দরে।
Advertisement
তমলুকে জেলাশাসক অফিস থেকে বড়জোড় ৫০০মিটার দূরে উত্তর সোনামুই পঞ্চায়েতের গণপতিনগর গ্রামে অভিজিৎ মণ্ডলের বাড়ি। নিমতৌড়িতে তাঁর পানের আড়ত রয়েছে। দুই ছেলেও পান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ২০১৮সালে সেপ্টেম্বর মাসে সার্ভের ভিত্তিতে অভিজিৎবাবুর নাম আবাস উপভোক্তা তালিকায় যুক্ত হয়। শুধু তালিকায় থাকা নয়, প্রায়োরিটি লিস্টে নাম ছিল। অর্থাৎ টাকা ছাড়া হলেই তাঁর অ্যাকাউন্টে তা জমা পড়ত। ১২নভেম্বর জেলাশাসক এবং পুলিস সুপার আবাস যোজনায় সুপার চেকিংয়ে বের হন। তাঁরা সোজা গণপতিনগর গ্রামে অভিজিৎবাবুর বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে জেলার দুই শীর্ষ অফিসারের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার অবস্থা। তিনতলা পাকা বাড়িটি একঝলক দেখলে মনে হবে, কোনও বহুজাতিক সংস্থার অফিস। সেগুন কাঠের জানালা এবং দরজা। বাড়িতে এসি বসানো। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে জেলাশাসকের প্রশ্ন, এই বাড়ি থাকা ব্যক্তির নাম কীভাবে আবাস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হল? কারা সার্ভে করেছিল? আবাস তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে।
বৃহস্পতিবার অভিজিৎবাবু বলেন, আবাস যোজনায় আমার নাম ছিল। আগে কাঁচা বাড়ি ছিল। প্রায়োরিটি তালিকায় নাম থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেবে বলে আশায় ছিলাম। সেজন্য কাঁচাবাড়ি ভেঙে দিই। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনায় টাকা আটকে দেওয়ায় আমরা একসঙ্গে তিনতলা বাড়ি বানিয়ে নিই। বাড়িতে আবাসের সার্ভে করতে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কর্মীরা এলে তাঁদের জানাই, পাকা বাড়ি বানিয়ে নিয়েছি। সুতরাং, আবাস যোজনার টাকা প্রয়োজন নেই।
অভিজিৎবাবুর বাড়ির কাছেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ বেরার বাড়ি। সোমনাথবাবু বলেন, ওদের আগে কাঁচা বাড়ি ছিল। সেজন্য আবাস যোজনায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এক বছর আগে ওরা পাকা তিনতলা বাড়ি বানিয়ে নিয়েছে। এখন ওদের আবাস যোজনার টাকা প্রয়োজন নেই। ওরা সার্ভের সময়ও সেকথা সরকারি কর্মীদের জানিয়েছিল।
তমলুকের বিডিও ওয়াসিম রেজা বলেন, আবাসের তালিকায় থাকা গণপতিনগরে ওই ব্যক্তির বাড়ি দেখে আমরা অবাক হয়েছি। তিনতলা ঝাঁ চকচকে বাড়ি। পানের আড়তদার। তারপরও আবাস তালিকায় নাম ছিল। ভেরিফাই করার সময় তাঁর নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ ছিল। সেই সুপারিশ যথার্থ কি না যাচাই গিয়ে আমরা সকলেই অবাক।
জেলাশাসক বলেন, যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে আবাস যোজনায় বাড়ি পান সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাকা বাড়ি থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই প্রকল্প নয়। তাই সুপার চেকিং করে গোটা বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তাতেই অনেক কিছু উঠে আসছে। গণপতিনগরে ওই বাড়ির প্রসঙ্গ প্রশাসনিক বৈঠকেও উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার অভিজিৎবাবু বলেন, আবাস যোজনায় আমার নাম ছিল। আগে কাঁচা বাড়ি ছিল। প্রায়োরিটি তালিকায় নাম থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেবে বলে আশায় ছিলাম। সেজন্য কাঁচাবাড়ি ভেঙে দিই। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনায় টাকা আটকে দেওয়ায় আমরা একসঙ্গে তিনতলা বাড়ি বানিয়ে নিই। বাড়িতে আবাসের সার্ভে করতে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কর্মীরা এলে তাঁদের জানাই, পাকা বাড়ি বানিয়ে নিয়েছি। সুতরাং, আবাস যোজনার টাকা প্রয়োজন নেই।
অভিজিৎবাবুর বাড়ির কাছেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ বেরার বাড়ি। সোমনাথবাবু বলেন, ওদের আগে কাঁচা বাড়ি ছিল। সেজন্য আবাস যোজনায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এক বছর আগে ওরা পাকা তিনতলা বাড়ি বানিয়ে নিয়েছে। এখন ওদের আবাস যোজনার টাকা প্রয়োজন নেই। ওরা সার্ভের সময়ও সেকথা সরকারি কর্মীদের জানিয়েছিল।
তমলুকের বিডিও ওয়াসিম রেজা বলেন, আবাসের তালিকায় থাকা গণপতিনগরে ওই ব্যক্তির বাড়ি দেখে আমরা অবাক হয়েছি। তিনতলা ঝাঁ চকচকে বাড়ি। পানের আড়তদার। তারপরও আবাস তালিকায় নাম ছিল। ভেরিফাই করার সময় তাঁর নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ ছিল। সেই সুপারিশ যথার্থ কি না যাচাই গিয়ে আমরা সকলেই অবাক।
জেলাশাসক বলেন, যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে আবাস যোজনায় বাড়ি পান সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাকা বাড়ি থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই প্রকল্প নয়। তাই সুপার চেকিং করে গোটা বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তাতেই অনেক কিছু উঠে আসছে। গণপতিনগরে ওই বাড়ির প্রসঙ্গ প্রশাসনিক বৈঠকেও উঠে এসেছে।



