নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চিটফান্ডের কায়দায় মাসে ৮শতাংশ সুদের টোপ দিয়ে কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে তমলুকে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের গ্রাহক সেবা কেন্দ্র খুলে গ্রাহকদের মগজধোলাই করে প্রতারণা হয়েছে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কর্ণধার ও তার দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। শুক্রবার তমলুক থানার পুলিস ঘটনার তদন্তে এলাকায় যায়। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই ওই সিএসপি কাউন্টার বন্ধ। তমলুক থানার পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী নবদ্বীপ দাস সহ সাতজনের বিরুদ্ধে ওই সিএসপির কর্ণধারও একটি অভিযোগ করেছেন। সিএসপি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, তমলুক ব্লকের জোতভিরাম গ্রামে বিজয়কৃষ্ণ জানার প্রায় পাঁচ-ছ’বছর ধরে পিএনবির সিএসপি কাউন্টার রয়েছে। সেখানে অরুণ সামন্ত ও তপন দাস নামে আরও দু’জন কাজ করে। ২০২৩সাল থেকে অরুণ ও তার দুই সঙ্গী এসডিএফএক্স গ্লোবাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থায় মাসিক ৮শতাংশ সুদে টাকা বিনিয়োগ করার জন্য জোতভিরাম, তেঘরি, মামুদপুর ও জোতঙ্কুর গ্রামের গ্রাহকদের প্রলোভন দেখায়। অরুণ ব্যাঙ্কমিত্র হওয়ায় অনেকের সঙ্গে পরিচিতি রয়েছে। তার প্রতি অনেকের আস্থাও তৈরি হয়েছিল। লোভের বশে অনেকেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে ওই সংস্থায় রাখেন। জোতভিরাম গ্রামের নবদ্বীপ দাস ও তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী দাস দু’লক্ষ টাকা, ওই গ্রামের গয়ারাম সাঁতরা এক লক্ষ ২০হাজার টাকা, তেঘরি গ্রামের বিজয়কৃষ্ণ প্রামাণিক এক লক্ষ টাকা, পূর্ণচন্দ্র আচার এক লক্ষ টাকা, মামুদপুর গ্রামের রাজকুমার পট্টনায়েক ছ’লক্ষ টাকা, জোতঙ্কুর গ্রামের নির্মলকান্তি দাস ছ’লক্ষ টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন। পিপুলবেড়িয়া-২ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের এক সদস্য ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য আট লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।
Advertisement
কাঁথি-৩ ব্লকে একই সংস্থায় টাকা রেখে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা, এলআইসি কর্মী ও সাধারণ মানুষজন ঠকেছেন। শেয়ার বাজারে টাকা বিনিয়োগ করে মাসে আট শতাংশ সুদ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে প্রতারণার জাল পাতা হয়েছিল। প্রথম তিন-চার মাস সুদের টাকা দেওয়ার পর থেকেই বন্ধ। কাঁথি-৩ ব্লকে এই প্রতারণা চক্রে একাধিক শিক্ষক জড়িয়ে পড়েছিলেন। কাঁথি থানায় দু’জন প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। তবে তমলুকে ওই কারবারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সিএসপি কর্ণধার বিজয়কৃষ্ণ জানা।
জোতভিরাম গ্রামের বাসিন্দা নবদ্বীপ দাস বলেন, আমার সঙ্গে অভিযুক্ত বিজয়কৃষ্ণের সুসম্পর্ক ছিল। তার কথায় বিশ্বাস করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে ওই সংস্থায় রেখেছিলাম। আমার নামে এক লক্ষ এবং স্ত্রীর নামে আরও এক লক্ষ টাকা রেখে সর্বস্বান্ত হয়েছি। আমাদের এখানকার একশো জনের বেশি প্রতারিত হয়েছেন। প্রতারণা হওয়া টাকার পরিমাণ এক থেকে দেড় কোটি।
আর এক প্রতারিত পূর্ণচন্দ্র আচার বলেন, আমরা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে ওই সংস্থায় রেখেছিলাম। শুরুতে তিন-চার মাস সুদ দেওয়া হলেও তারপর ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাধ্য হয়ে আমরা থানার দ্বারস্থ হয়েছি। অভিযুক্ত বিজয়কৃষ্ণ জানার মোবাইল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।
জোতভিরাম গ্রামের বাসিন্দা নবদ্বীপ দাস বলেন, আমার সঙ্গে অভিযুক্ত বিজয়কৃষ্ণের সুসম্পর্ক ছিল। তার কথায় বিশ্বাস করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে ওই সংস্থায় রেখেছিলাম। আমার নামে এক লক্ষ এবং স্ত্রীর নামে আরও এক লক্ষ টাকা রেখে সর্বস্বান্ত হয়েছি। আমাদের এখানকার একশো জনের বেশি প্রতারিত হয়েছেন। প্রতারণা হওয়া টাকার পরিমাণ এক থেকে দেড় কোটি।
আর এক প্রতারিত পূর্ণচন্দ্র আচার বলেন, আমরা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে ওই সংস্থায় রেখেছিলাম। শুরুতে তিন-চার মাস সুদ দেওয়া হলেও তারপর ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাধ্য হয়ে আমরা থানার দ্বারস্থ হয়েছি। অভিযুক্ত বিজয়কৃষ্ণ জানার মোবাইল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।



