Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোটি টাকার দুর্নীতি সিপিএম পঞ্চায়েতে

কোটি টাকার দুর্নীতি সিপিএম পঞ্চায়েতে
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: প্রায় কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠল নবদ্বীপের সিপিএম পরিচালিত মায়াপুর-বামনপুকুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য লিচ পিট নির্মাণে এই দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। লিচ পিট নির্মাণে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ করেন পঞ্চায়েতেরই বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের আব্দুল মুন্নাফ আলি। তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন নবদ্বীপের বিডিওর কাছে।
Advertisement
অভিযোগ, মায়াপুর-বামনপুকুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য জল নিষ্কাশনের লিচ পিট তৈরি হয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী যেভাবে লিচ পিটগুলি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে না করে অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই অসম্পূর্ণ কাজের বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী সিপিএম পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ, টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মুন্নাফ আলি। 
স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পের জন্য সরকার বর্জ্য নিষ্কাশনের লিচ পিট প্রকল্প শুরু করেছিলেন। এটি এভাবেই করা হয় যে, পাঁচটা পরিবারের ব্যবহৃত জল সেই লিচ পিটে গিয়ে পড়বে। মূলত স্বচ্ছ নিকাশি ব্যবস্থা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এই  প্রকল্প। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক নির্মাণ পদ্ধতি মেনে এই পিচ লিট তৈরি করা হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী বহু জায়গায় লিচ পিট তৈরি না করেই ভুয়ো ব্যক্তিদের নামে বিল পেমেন্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের পুরো টাকাটাই তছরূপ করেছে বর্তমান পঞ্চায়েতের প্রধান ও সঞ্চালক। এক লক্ষ টাকা খরচ দেখিয়ে তিনটি করে লিচ পিট তৈরি করা হয়েছে, এমন প্রায় দেড়-দু’ শ লিচ পিট দেখানো হয়েছে। এই স্কিমে পঞ্চায়েত প্রধান ও সঞ্চালক কোনও আলোচনা না করে, পঞ্চায়েত সদস্যদের অন্ধকারে রেখে কাজ করেছেন। পঞ্চায়েত থেকে যে তালিকা পাওয়া গিয়েছে সেই তালিকা সম্পূর্ণরূপে ভুয়ো ও ত্রুটিপূর্ণ। তালিকায় উপভোক্তাদের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যে সমস্ত উপভোক্তার নাম দেওয়া হয়েছে, সেখানে এই প্রকল্পের কোনও কাজ হয়নি। গোমাঘর ফেরি ঘাটের  শুকদেব মাঝি বলেন, এখানে লিচ পিটের যে চৌবাচ্চা করা হয়েছে তা ঠিকমতো হয়নি। জলঙ্গির ধারে তো জলই জমে না। নবদ্বীপ ব্লক সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মিন্টু মণ্ডল বলেন, মায়াপুর ১৬ নম্বর বুথে একটাও লিচ পিট হয়নি। এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে পরিকল্পিতভাবে তা কেটে দেওয়া হয়েছে। পাশাপশি আরও যে অভিযোগ উঠেছে, এই পঞ্চায়েতের বল্লালদিঘি ৩০ নম্বর বুথের কাঞ্চন পাড়ায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে রাস্তার মাঝখান দিয়ে নিকাশি ড্রেন এবং সেই ড্রেনের কভার অর্থাৎ স্ল্যাব ঠিকমতো তৈরি করা হয়নি। এক মাস যেতে না যেতেই সেই স্ল্যাব ভেঙে গিয়েছে। বিষয়টি পঞ্চায়েত প্রধানকেও জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। বল্লালদিঘির বাসিন্দা গৃহবধূ চম্পা বিবি, বৃদ্ধ ইসমাইল শেখরা  বলেন, এখানে ড্রেনের স্ল্যাব কোনওরকমে করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে টোটো নিয়ে যেতে গিয়ে টোটো পড়ে গিয়েছে। 
মায়াপুর-বামনপুকুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের সঞ্চালক মোঃ মইনুল হক বলেন, এই পঞ্চায়েতে প্রতিটি কাজ ওপেন টেন্ডার ডেকে করা হয়। টেন্ডার স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়। লিচ পিট যেগুলি হয়েছিল তার ভিডিও করে লোকেশন দিয়ে প্রতিটি কাজের ছবি তোলা আছে। ওরা যদি প্রমাণ করতে পারে এই ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, প্রশাসনিক স্তরে যা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে, আমরা মাথা পেতে নেব। নবদ্বীপ ব্লকের এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানালেন, এখনও অভিযোগ হাতে এসে পৌঁছয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ