সংবাদদাতা, কাঁথি: এক কোটিরও বেশি টাকা তছরুপের অভিযোগে ‘ব্যাঙ্কমিত্র’কে গ্রেপ্তার করল খেজুরি থানার পুলিস। ধৃতের নাম শঙ্কর মণ্ডল। তার বাড়ি খেজুরির হলুদবাড়ি পঞ্চায়েতের কার্তিকখালিতে। সে খেজুরির মুণ্ডমারিতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সিএসপি চালাত। বহুদিন ধরে পুলিস তাকে খুঁজছিল। তার বিরুদ্ধে এক কোটিরও বেশি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রসুলপুর নদীর তীরে বোগা ঘাটের কাছে প্রতারিত গ্রাহকদের কয়েকজন তাকে দেখতে পান। সে কাঁথি থেকে ফিরছিল। তাঁরা শঙ্করকে আটকে রেখে খেজুরি থানায় খবর দেন। পুলিস গিয়ে ওই ব্যক্তিকে প্রথমে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করে। থানার ওসি প্রলয় চন্দ বলেন, ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, খেজুরি-২ ব্লকের হলুদবাড়ি পঞ্চায়েতের মুণ্ডমারিতে বহুদিন ধরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সিএসপি(কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট) চালাত শঙ্কর। ব্যাঙ্কের শাখা দূরে হওয়ায় ওই সিএসপিতে অনেকেই গ্রাহক হয়েছিলেন। এছাড়া, এলাকার ১৯টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী সেখানে অ্যাকাউন্ট খোলে। ওই ব্যাঙ্কমিত্রের কাছে গ্রাহকরা টাকা জমা দিতেন। কিন্তু অভিযোগ, শঙ্কর শুধু পাসবইয়ের পিছনে লিখে দিত, কত টাকা জমা হয়েছে। ব্যাঙ্কে টাকা জমা দিত না। কোনও গ্রাহক পাঁচহাজার টাকা তুলতে এলে তাঁকে একহাজার টাকা দিত। আবার কেউ বেশি টাকা তুলতে চাইলে বলত, এখানে হবে না, ব্যাঙ্কে যান। অভিযোগ, এভাবেই অন্তত ৪০জন গ্রাহক প্রতারিত হন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর, কৃষকবন্ধুর ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও সে আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাঙ্কের তরফে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপরই সে গা-ঢাকা দেয়। ব্যাঙ্ক ওই সিএসপি বন্ধ করে দেয়।
খেজুরির মুরলীচকের বাসিন্দা সুমননারায়ণ বাকরা বলেন, ওই ব্যাঙ্কমিত্র গ্রাহকদের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতারণা করেছে। আমরা পুলিসকে ঘটনার তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছি।
খেজুরির মুরলীচকের বাসিন্দা সুমননারায়ণ বাকরা বলেন, ওই ব্যাঙ্কমিত্র গ্রাহকদের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতারণা করেছে। আমরা পুলিসকে ঘটনার তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছি।



