Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় স্কুলের মাঠে শাসক দলের অনুষ্ঠান, বই নিয়ে ফিরে গেল পড়ুয়ারা

কাটোয়ায় স্কুলের মাঠে শাসক দলের অনুষ্ঠান, বই নিয়ে ফিরে গেল পড়ুয়ারা
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: স্কুল খোলা রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াদের নতুন বই দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই স্কুল চত্বরেই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে ধুমধাম করে অনুষ্ঠান চলল। তারস্বরে মাইক বাজিয়ে কীর্তন, বাউল গান সবই হয়েছে। এমনকী, শাসকদলের অনুষ্ঠানের জন্য স্কুলে মিড-ডে মিলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াদের শুধুমাত্র বই দিয়ে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি লিখিতভাবে স্কুল পরিদর্শকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।
Advertisement
কাটোয়া পূর্ব চক্রের স্কুল পরিদর্শক শুভজিৎ মণ্ডল বলেন, এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। কাটোয়া-২ এর বিডিও আসিফ আনসারি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ অঞ্চলে মাখালতোড় মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরেই প্রাথমিক স্কুলও আছে। স্কুলের মাঠে তৃণমূলের ২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল। গোটা স্কুলচত্বর দলীয় পতাকা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। মঞ্চ তৈরি করে সেখানে কীর্তন, বাউল গান, এমনকী, যাত্রানুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এদিন দুপুরে স্কুল চত্বরে গিয়ে দেখা গেল, তারস্বরে মাইক বাজিয়ে কীর্তন চলছে। অনেকেই কীর্তন শুনতে আসছেন। মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এসে বই নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা থাকলেও পড়ুয়াদের দেখা মেলেনি।
বিজেপির অভিযোগ, স্কুল চত্বরে মিটিং, সামাজিক অনুষ্ঠান করা যায় না। সেবিষয়ে সরকারি নির্দেশ রয়েছে। সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই শাসকদলের কিছু নেতা স্কুল খোলা থাকলেও এরকম অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ ঘোষ বলেন, আমরা বিষয়টি স্কুল পরিদর্শক ও মহকুমা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।
অভিভাবকরা বলেন, এতদিন স্কুল বন্ধ ছিল। এবার খুলেছে। এই সময়ে স্কুল চত্বরে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান কাম্য নয়। স্থানীয় কিছু নেতা এই কাজ করেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্তনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্কুলের মধ্যে অনুষ্ঠানের জন্য এদিন মিড-ডে মিল দেওয়া যায়নি। পরিচালন সমিতির সভাপতি অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছেন। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সদস্য নিতাইসুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি পরিচালন সমিতির সদস্যদের অনুমতি নিয়েই একাজ করেছি। তাছাড়া, এখনও পঠনপাঠন চালু হয়নি। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন বলেন, আমি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। •  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ