Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় শুরু হয়েছে রাজ্য কবিয়াল মেলা ও কর্মশালা

কাটোয়ায় শুরু হয়েছে রাজ্য কবিয়াল মেলা ও কর্মশালা
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় আয়োজিত রাজ্য কবিয়াল মেলায় প্রশিক্ষক হয়েছেন মুর্শিদাবাদের মহিলা শিল্পী দুলালি চিত্রকর। যাঁর হাত ধরে বাংলার কবিগান বিদেশেও পাড়ি দিয়েছিল। বাংলাদেশ সহ মুম্বই, ত্রিপুরার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষকেও তিনি বাংলার কবিগান শুনিয়েছিলেন। মঙ্গলবার থেকে কাটোয়ায় শুরু হল তিনদিনের কবিয়াল মেলা ও কর্মশালা। বিভিন্ন জেলার কবিয়ালরা যোগ দিয়েছেন কর্মশালায়। 
Advertisement
কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগারের সভাকক্ষে তিনদিনের কবিগান মেলা ও কর্মশালার আয়োজন করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কবিগান মেলা ও কর্মশালা শিবিরে যোগ দিয়েছেন ১০০ জন কবিয়াল। যাঁরা সরকারি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের নথিভুক্ত রয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া, কালনা মহকুমা সহ, নদীয়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে শিল্পীরা এসেছেন। তাঁরা সারাদিন ধরে কবিগান গাইছেন। তাঁদের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে প্রশিক্ষক হিসাবে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের কবিয়াল অখিল মণ্ডল ও দুলালি চিত্রকর। মূলত গ্রামাঞ্চলের কবিয়ালদের বাচনভঙ্গি ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটনাতেই প্রশিক্ষকরা তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন। 
বাংলার হারিয়ে যাওয়া কবিগান গান এখনও যে টিকে রয়েছে তা মেলার আয়োজনেই বুঝিয়ে দিয়েছে। একটা সময়ে গ্রামেগঞ্জে সমাজ সচেতনতা প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল কবিগান। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথপুর ব্লকের মির্জাপুর পঞ্চায়েতের গণকর গ্রামের বাসিন্দা দুলালি চিত্রকরের হাত ধরেই বাংলার কবিগান বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। দুলালিদেবী একটা সময় নিজেই বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছিলেন। তাই সমাজকে কুসংস্কার মুক্ত করতে কবিগানকে হাতিয়ার করে তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে চলেছেন। তিনি বলেন, আমি দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়েছিলাম কবিগান শোনাতে। অবশ্য তাতে দোভাষীর সাহায্যে নিতে হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কবিগাব বোঝেন। বিদেশিরা যদি কবিগান শুনতে পারেন তাহলে বাংলার মানুষদেরও শোনা উচিত। কবিগানই পারে সমাজে নারী নির্যাতন থেকে হিংসা দূর করতে। বর্তমান প্রজন্ম যাতে কবিগান শুনতে আগ্রহী হন সেইমতো আমাদের বিষয় উপস্থাপনা করতে হবে। রাজ্য সরকার আমাকে প্রশিক্ষক হিসাবে ডাক দেওয়ায় আমি খুব খুশি। 
বিদেশি অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি সাহেবও একসময় বাংলায় কবিয়াল হয়েছিলেন। আর দুলালী দেবী মৃৎশিল্পী পরিবারের মেয়ে হয়েও কবিগান গেয়ে চলেছেন। এদিন কাটোয়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক সুস্মিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, মহিলারা যে কোনও অংশে কম যান না, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ দুলালিদেবী। উনি বিদেশেও গিয়েছেন কবিগান গাইতে।
সম্পর্কিত সংবাদ