Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় প্রথম পক্ষের সন্তানের পিতৃ পরিচয়ে দ্বিতীয় স্বামীর নাম দিতে আবেদনের হিড়িক

কাটোয়ায় প্রথম পক্ষের সন্তানের পিতৃ পরিচয়ে দ্বিতীয় স্বামীর নাম দিতে আবেদনের হিড়িক
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: দ্বিতীয় বিবাহের পর প্রথম পক্ষের সন্তানের পিতৃ পরিচয় বদলাতে চাইছেন বহু মহিলা। প্রথম পক্ষের স্বামীর স্মৃতি ভুলতে চাইছেন অনেকেই। তাই সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর নাম পিতৃ পরিচয় হিসেবে রাখার জন্য আবেদন জমা দিচ্ছেন। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের জন্ম মৃত্যু শংসাপত্র বিভাগে এরকম অনেক আবেদন আসছে। আর তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। 
Advertisement
অনেকে আবার জন্ম শংসাপত্রে সদ্যোজাতের বাবার নামের জায়গায় ভুল করে দাদুর নাম দিয়ে দিচ্ছেন। পরে তা সংশোধন করতে ভিড় জমাচ্ছেন হাসপাতালে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, দ্বিতীয় বিবাহের পর প্রথম পক্ষের সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে বাবার নাম হিসেবে দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর নাম তোলার জন্য মহিলারা আমাদের কাছে আসছেন। এইসব আবেদন সামলাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। পোর্টালে আবেদন করার পর অবশ্য শেষমেশ সেসব বাতিল হয়ে যায়। 
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ইপর নির্ভরশীল মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার একাংশ। কারণ ভাগীরথী নদীর অপর পাড়েই নদীয়া জেলা। পাশাপাশি কেতুগ্রামের ফুঁটিসাঁকো পার হলেই মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলা। ওইসব জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে প্রসূতিরা কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালেই আসেন। মুর্শিদাবাদের সালার থানার বাসিন্দারা বেশি আসেন কাটোয়ায়। তাই সন্তানের জন্ম শংসাপত্রের জন্য তাঁদের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালেই আবেদন করতে হয়। 
দেখা যাচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স বেড়ে যাচ্ছে। তারপর অনেক মহিলাই ডিভোর্সের পর প্রথম পক্ষের সন্তানের প্রথম পক্ষের সন্তানের পিতৃ পরিচয় মুছে ফেলার জন্য আগ্রহী হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তাঁরা সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর নাম পিতৃ পরিচয় হিসেবে রাখার জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আবেদন জানাচ্ছেন। দপ্তরের কর্মীরা এসব আবেদন বর্ধমানে জেলা সদর দপ্তরে পাঠাচ্ছেন। তারপর ভেরিফিকেশন করে আবেদন পত্র বাতিল করছেন। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের জন্ম মৃত্যু শংসাপত্র বিভাগের অফিসার রাকেশ দাস বলেন, দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর নাম প্রথম পক্ষের সন্তানের পিতৃপরিচয় হিসাবে জন্ম শংসাপত্রে রাখার আবেদন বর্ধমানে পাঠাই। সেখান থেকে ভেরিফিকেশন করা হয়। পরে সেইসব আবেদন বাতিল হয়। কিন্তু কারও নামের ভুল থাকলে তা সংশোধন হয়। এসব আবেদন বেশি আসছে মুর্শিদাবাদ জেলার সালার থেকে। 
কাটোয়ার মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম থেকে গড়ে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫টি করে এমন আবেদন আসে। কাটোয়া মহকুমা  আদালতের এক আইনজীবী বলেন, এরকমটা হয় না। প্রথম পক্ষের সন্তানের পিতৃপরিচয় বদল করা যায় না। তবে প্রথম পক্ষের সন্তানের শুধুমাত্র ‘অভিভাবক’ হিসাবে দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর নাম দেওয়া যেতেই পারে। তবে তার জন্য জেলা আদালতে যেতে হবে তাঁদের।  
সম্পর্কিত সংবাদ