নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দত্তপুকুরের খুন কাণ্ডে কাটামুণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করল মূল অভিযুক্ত জলিল। অকুস্থলের পাশেই সেটি ‘লুকোনো’ আছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীদের। এলাকায় গিয়ে তা খুঁজে দেবে বলে অকপটে জানিয়েছে পুলিসকে। তদন্তকারীরা জেনেছে, জম্মু থেকে চোরাপথে পাকিস্থানে পালানোর ছক কষেছিল জলিল। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নেয়নি বলেও পুলিসের কাছে স্বীকার করেছে দত্তপুকুর কাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’। জম্মুর সাম্বা থেকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিকেলেই তাকে নিয়ে দত্তপুকুরে ফিরেছেন তদন্তকারী পুলিসের টিম। রবিবার আদালতে তুলে হেফাজতে রেখে নিহত হজরত লস্করের মুণ্ডর হদিশ মিলবে বলেই দাবি পুলিসের।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জলিল কুখ্যাত দুষ্কৃতী। বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসার পর ধৃত ওবাইদুল গাজি, নিহত হজরত লস্করের সঙ্গে জলিলও অপরাধ করত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। আক্রোশ থেকেই জলিল ও ওবাইদুলরা হজরতকে খুনের পরিকল্পনা করে। জলিল গত ২ ফেব্রুয়ারি গাইঘাটা থেকে হজরতকে দত্তপুকুরে ডেকে আনে। পাশাপাশি হাঁসুয়াতেও শান দিয়ে রেখেছিল। খুন করেই সে পালায় জম্মু। পুলিসের টিম জম্মু আসছে তাকে ধরতে, আঁচ করেই জম্মু ছেড়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তান সীমান্ত লাগোয়া সাম্বা গ্রাম গা ঢাকা দেয়। আর এই গ্রাম একেবারে পাকিস্তান সীমান্তে। তা টপকে পাকিস্থানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। কিন্তু, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সাহস দেখায়নি। এদিন, বারাসতের এসডিপিও আজিঙ্কে বিদ্যাগর অনন্ত জলিলকে জেরা করেছে। কিন্তু পুলিসকে জেরায় বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছে সে। জলিল কয়েকজনের নামও বলেছে পুলিসকে। যদিও তাদের অস্তিত্ব নেই বলেই অনুমান পুলিসের। আর, এদিন রাতে দত্তপুকুর থানায় গিয়ে ধৃত জলিলকে দফায় দফায় জেরা করছেন পুলিসের জেলার শীর্ষকর্তারা। এসডিপিও বলেন, ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, মুণ্ড কেটে হজরতকে খুনের কথা স্বীকার করেছে জলিল। জেরার একেবারে শেষ পর্যায়ে কাটা মুণ্ড কোথায় লুকিয়ে রেখেছে, সেই জায়গার ইঙ্গিতও পুলিসকে দিয়েছে।



