Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়া হাসপাতালে পড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ভবন

কাটোয়া হাসপাতালে পড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ভবন
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আরও উন্নত পরিষেবা দিতে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ শয্যার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। কয়েক মাস আগেই ওই ভবনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও নতুন ভবনের পরিষেবা চালু হয়নি। হাসপাতালের দাবি, নতুন ভবনে পরিষেবা চালু করতে গেলে পর্যাপ্ত কর্মীর প্রয়োজন। সেটা না থাকায় চালু করা যাচ্ছে না। তাতে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, নতুন ভবনে পরিষেবা চালু করতে যা যা দরকার আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পর্যাপ্ত কর্মী এলেই নতুন ভবনের পরিষেবাও চালু করা হবে। 
Advertisement
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রসূতি, পুরুষ, মহিলা, শিশু সহ মোট ২৮৬টি শয্যার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভিতরে জায়গা অপরিসর থাকায় ২৫৬টি শয্যা রয়েছে। এবার ওই চারতলা নতুন ভবনে অতিরিক্ত ১০০টি নতুন শয্যা রাখা হয়েছে। তাছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যেমে অক্সিজেন সাপ্লাই করারও ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন ভবনের চারতলায় ১৮টি বেড সম্পন্ন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু বিভাগ ওই নতুন ভবনে চালু করার কথা। কিন্তু এখনও তা চালু করা যায়নি। 
২০১৯ সালে দেশজুড়ে কোভিড পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি জেলায় অতিরিক্ত ১০০ বেডের নতুন ভবন তৈরির কথা ঘোষণা করেন। পরবর্তীকালে ওই ভবন তৈরি করা হয়। সেখানে আবার করোনা পরিস্থিতি হলে তারজন্যও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করার কথা। অভিযোগ, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নতুন ভবনের পরিষেবা এখনও চালু করা হয়নি। 
এমনিতেই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর এই জেলার পাশাপাশি নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলার একাংশ নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত হচ্ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগীর চাপ। চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আনা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। আগেই হাসপাতালের রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে এইচডিইউ বিভাগ। হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় রোগীদের। প্রায়শই হাসপাতালের শিশু বিভাগে বেড পাওয়া নিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয় অনেককেই। অতিরিক্ত ১০০টি শয্যা বাড়লে রোগীর চাপ অনেকটাই সামাল দেওয়া যাবে। হাসপাতালের দাবি, নতুন ভবনে পরিষেবা চালু করতে গেলে অন্তত ১০জন সিকিউরিটি দরকার। এখন সেখানে মাত্র দু’জন রয়েছেন। তাছাড়া গ্রুপ-ডি কর্মী ও অতিরিক্ত চিকিৎসকের প্রয়োজন। বারবার রাজ্য স্বাস্থ্যভবনে প্রস্তাব পাঠালেও কার্যকর হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ